জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ২ অক্টোবর জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) দেশব্যাপী জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উদযাপন করছে জেনে আমি আনন্দিত।

জাতীয় অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব অপরিহার্য। উৎপাদনশীলতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিধারাকে ত্বরান্বিত করে। উৎপাদন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। এ বছরে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে উৎপাদনশীলতা’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি। কারণ সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গঠিত হলে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছে গেছে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকার ইতিমধ্যে ‘ভিশন-২০২১’ ও ‘ভিশন-২০৪১’ ঘোষণা করেছে। তাছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চ্যালেঞ্জ অর্জনেও সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এসব দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।

টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা অপরিহার্য। এজন্য কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ প্রতিটি সেক্টরে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে এনপিও’র পাশাপাশি দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উদযাপনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছে উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি আশা করি এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিল্পকারখানা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্রিয় ভ‚মিকা রাখবে।

জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস সফল হোক -এ কামনা করি।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ অক্টোবর জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) প্রতিপাদ্য ‘সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে উৎপাদনশীলতা’কে সামনে রেখে ২রা অক্টোবর, ২০১৮ দেশব্যাপী জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালন করছে জেনে আমি আনন্দিত।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সূচকসমূহের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সকল ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সকল খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এজন্য জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতাবোধ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

আমি আশা করি, জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমি ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস ২০১৮’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রিন্স, ঢাকানিউজ২৪