গোপালগঞ্জে হচ্ছে আধুনিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র

নিউজ ডেস্ক: কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গুণগতমান সম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও সরবরাহের লক্ষ্যে আধুনিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র করা হচ্ছে গোপালগঞ্জে। গবেষণা কেন্দ্রটি নির্মিত হলে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা এই তিনটি বিভাগের ৫ জেলার ৩৮টি উপজেলার কৃষিতে অবদান রাখবে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার কৃষি ব্যবস্থা ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে দেশের অন্য জেলাসমূহ থেকে পৃথক। তাই রাজধানীর কাছাকাছি এই ৫ জেলার সঙ্গে যোগাযোগে সহজ হিসেবে গোপালগঞ্জে একটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করলে এ অঞ্চলের কৃষিতে বিরাট বৈপ্লবিক উন্নয়ন হতে পারে। এই বিবেচনায় গোপালগঞ্জে একটি আধুনিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপযোগী ফসলের উপযোগিতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই সম্ভব হবে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপযোগী সবজি, ফল, ডাল, আলু, তৈলবীজ, গম, ভুট্টা, নারিকেল, তাল এবং খেজুরের উৎপাদন বাড়ানো ও কৃষকদের আয় বাড়ানোর পথ সহজ হবে। সর্বোপরি এই গবেষণা কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস, সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাত এবং প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে ‘গোপালগঞ্জ জেলায় বিএআরআই-এর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএআরআই) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৩ সালের ৩০ জুন মেয়াদকালে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার কৃষি ব্যবস্থা ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে দেশের অন্য জেলাসমূহ থেকে পৃথক হওয়ায় এসব জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি লবণাক্ততা একটি মারাত্মক সমস্যা। এ অঞ্চলের পরিবেশগত ভিন্নতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী কৃষি ব্যবস্থার ওপর তেমন কোনও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় উন্নত চাষাবাদ সুবিধাও এখানে অনেকটা সীমিত। এ অঞ্চলের মোট জমির ৩৫.৪০ ভাগ উঁচু ও মাঝারি উঁচু যেখানে সহজে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) উদ্ভাবিত জাল, তৈলবীজ, কন্দাল, গম, ভুট্টা, মসলা, শাক-সবজি ও ফলসমূলসমূহ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে বারি’র আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রগুলো গোপালগঞ্জ হতে দূরে অবস্থিত হওয়ায় সে সকল কেন্দ্র থেকে এ এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার, উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল চাষাবাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং সমন্বিত খামার ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার গবেষণা ও উন্নয়নে একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। এ বিবেচনায় গোপালগঞ্জ জেলায় বিএআরআই-এর একটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ হবে। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গুণগতমান সম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ সহজ হবে। গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপযোগী ফসলের উপযোগিতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা যাবে। একইসঙ্গে এই গবেষণা কেন্দ্রে সেমিনার ও কর্মশালার মাধ্যমে বিএআরআই উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও প্রযুক্তির বিস্তারের পথ সহজ হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনে ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ৫টি জেলার ৩৮টি উপজেলায় পাঁচ বছরে বিএআরআই উদ্ভাবিত প্রায় ১৫টি ফসলের উপযোগিতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ২ হাজারটি ট্রায়াল স্থাপন করা হবে। বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও প্রযুক্তির বিস্তারের কৃষির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক ডিলারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উদ্ভাবিত কার্যকরী প্রযুক্তিসমূহ মাঠ পর্যায়ে দ্রুত জনপ্রিয় করতে প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সার্বিক সহযোগিতা উচ্চফলনশীল জাত সমূহের উপযোগিতা যাচাইয়ের পর পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা হবে এবং ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন কর্মসূচি স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ সংগ্রহ করা হবে। উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ হবে। কৃষি গবেষণা কেন্দ্রসহ গোপালগঞ্জে ৪টি গবেষণা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব, কীটতত্ত্ব, মৃত্তিকা বিজ্ঞান উদ্যানতত্ত্ব/কৃষিতত্ত্ব) পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর। এক সময় বাংলাদেশকে চাল আমদানি করতে হতো। শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সব কিছুই সম্ভব হয়েছে সময়োপযোগী উদ্যোগের কারণে। ব্যাপক গবেষণার ফসল এই খাদ্য বিপ্লব। এ কারণেই নতুন করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট স্থাপন করা হচ্ছে। এতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৫টি জেলার ৩৮টি উপজেলার কৃষিখাত উপকৃত হবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন