উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অপরটি অচল।

শনিবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ম সমাবর্তনে এসব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে এ সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রের ভিতকে মজমুত করতে হলে দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই নেতৃত্ব তৈরি হবে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের কোনো স্থান থাকবে না। ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব থাকবে ছাত্রদের হাতে। লেজুড়বৃত্তি বা পরনির্ভরতার কোনো জায়গা থাকবে না। ছাত্রসমাজকেই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, একটি আদর্শ। আমি আশা করি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা তাদের গর্বিত উত্তরাধিকারের বিষয়টি মনে রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেম, মানবিক, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রেখে যাবে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আজকাল বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসহিষ্ণুতা, উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড জাতি গভীর উদ্বেগের সাথে প্রত্যক্ষ করছে। আমি মনে করি এর উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে মুক্তিচিন্তা ও সংস্কৃতি চর্চার অভাবে। জাতির অমিত শক্তি যুবসমাজ। যুব সমাজের শক্তি ও সম্ভাবনাকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে আমাদের যুব সমাজকে অবশ্যই অপসংস্কৃতির প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন চিন্তার অধিকারী হতে হবে। মানবিক ও উদার হতে হবে। তা হলেই আমরা লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো এবং সুফল জাতির কাছে পৌঁছাতে পারবো। এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, অভিভাবক, ছাত্র সংগঠনকসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ও গবেষণা আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা এবং এগিয়ে চলার বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাস্তবতার প্রয়োজনে দেশে আজ পাবলিক প্রাইভেট মিলে প্রায় দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। জনসংখ্যার অনুপাতে সংখ্যা হয়তো অধিক হবে না। কিন্তু উচ্চশিক্ষা যাতে সার্টিফিকেট সর্বস্ব না হয় কিংবা শিক্ষা যাতে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না হয়, তা দেশ ও জাতির স্বার্থে সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এটা করতে না পারলে দেশে উচ্চশিক্ষা বেকারের সংখ্যা বাড়বে এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়বো।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, তোমাদের আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে তোমাদের শ্রদ্ধেয় পিতা- মাতা, শিক্ষকমণ্ডলীসহ সমাজ, দেশ ও জনগণের বিপুল অবদান। তোমরা তাদের কাছে ঋণী। তোমরা সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তোমাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও কর্ম দিয়ে জাতির আশা আকাঙ্খা পূরণে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে। সব সময় নৈতিক মূল্যবোধ, বিবেক ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখবে। কখনো অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করবে না।

সমাবর্তন বক্তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস প্রফেসর আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালগুলো বাইরে হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা দরকার। এজন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একাডেমিক স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসনের ধারণা ও বাস্তবতা যেন ধীরে ধীরে স্মৃতির অন্তরালে চলে না যায়, তা আমার নবীন সহকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। জনস্বার্থে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হিতে যে কোন মূল্যে আমাদের একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের নীতি ও চর্চাকে সমুন্নত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। অন্যদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান, সিটি কর্পোরেশন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়াসহ রাজশাহীর সংসদ সদস্যবৃন্দ সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা।

বক্তব্য দেওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসনকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম এই সমাবর্তনে ২০১১ থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার ১৪জনকে স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি দেওয়া হয়। সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০তলা বিশিষ্ট দুইটি আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন রাষ্ট্রপতি।