আসামের ৪০ লাখ এনআরসি তালিকাভূক্ত সবাই কী বাংলাদেশী?

মোহাঃ খোরশেদ আলম: ভারতের শাসকদল সর্বভারতীয় সভাপতি অমিতশাহ ৪০ লাখ এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের সকলকে ঢালাওভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি এও বলেছেন, এসব অবৈধ বসবাসকারী ব্যক্তিদের একজন একজন করে ভারত থেকে বের করে দেবেন। তিনি শাসকদলের উচ্চ পর্যায়ের এবং দায়িত্বশীল নেতা হয়ে এরকম উস্কানিমূলক বক্তব্যে আমরা নিন্দা জানাই। তিনি মনে করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনের পূর্বে সাম্প্রদায়িক উক্তি করে বিরাট জয়ের মালা গলায় পড়েছেন। তাই সামনে নির্বাচনের পূর্বে এরকম উক্তি করে অমিত শাহ বাবু নির্বাবচনী বৈতরনীতে লাভ খোঁজার চেষ্টা করছেন। 

কিন্তু তাকে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ভারতের পরীক্ষিত বন্ধু। সুতরাং এসব উক্তিতে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পাশাপাশি এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে অনাস্থা সৃষ্টি হয়। আসামে প্রথম এনআরসি বাদ পড়া ব্যক্তিদের সকলকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল নতুন করে তাদের আবারও আবেদন করতে এবং আসাম কর্তৃপক্ষ বলেছিলেন এটি একটি খসড়া তালিকামাত্র।

সুতরাং এই তালিকা বাদ পড়া ব্যক্তিদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আশ্বস্ত করেছিলেন, আসামে এনআরসি নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের কোন অবনতি ঘটবেনা। আমরা শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলার উক্তির উপর বিশ্বাস রাখবো, কারন ভারত বাংলাদেশকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ধরে রাখতে চাইলে বাংলাদেশের মানুষের সহিত তাদের সম্পর্কের মহামিলন ঘটাতে হবে। একটি দেশের সরকারের সহিত সরকারের সম্পর্ক বেশিদিন টেকসই হয়না। সম্পর্ক টেকসই করতে দু’দেশের মানুষের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে পারলেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হয়। বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে দু’দেশের সম্পর্ক অটুট রাখতে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সবার উপরে স্থান দিতে পারলে তৃতীয় কেউ সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারবেনা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দেশে আটকে পড়া সকল বাংলাদেশীকে পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে ঘোষনা দিয়েছেন। আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি আমরা আশা করছি, ভারত যেন তার দেশে দীর্ঘদিন যাবত বসবাসকারী সকল চিহ্নিত বাংলাদেশীদের সসম্মানে সেদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। বাংলাদেশ ছোট্র একটি দেশে ষোল কোটির বেশি নাগরিকের বসবাসের পর প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে প্রতিক‚ল অবস্থার মাঝে অতিবাহিত করছে, ভারত পার্শ্ববর্তী দেশ হয়ে সব কিছু অবলোকন করছে। তাই বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে পাশে রাখতে এদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট উপলব্ধি করে এমন কোন ব্যবস্থা নিবেননা যেটা ষোল কোটি মানুষের প্রত্যাশার বাইরে।