রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক:  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দশম সমাবর্তনের প্যান্ডেলের ভেতরে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ গ্র্যাজুয়েটদের দেখে সমাবর্তন পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে বললেন রাষ্ট্রপতি। গতকাল শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির লিখিত বক্তব্যের বাইরে এসব কথা বলেন তিনি।

সমাবর্তনস্থলে ১১৫টি এয়ার কুলার মেশিন লাগানোর পরও তীব্র গরমে ঘামছিলেন গ্র্যাজুয়েটরা। আঁটসাঁট কাপড়ের উপর গাউন পড়ায় গ্র্যাজুয়েটরা গরমে হাসফাঁস করছিলেন। তীব্র গরম থেকে পরিত্রাণ পেতে গ্র্যাজুয়েটরা তাদের ক্যাপ দিয়ে বাতাস করছিলেন। দৃশ্যটি রাষ্ট্রপতি ও আচার্য মো. আব্দুল হামিদের দৃষ্টিগোচর হলে সমাবর্তনের পদ্ধতি পরিবর্তন করে নতুন পদ্ধতি চালু করার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেন, সমাবর্তনের পদ্ধতি নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এখানে আছেন। ইউজিসিসহ আপনারা সবাই সমাবর্তন নিয়ে ভেবে দেখুন। বিট্রিশরা আমাদের দেশে স্যুটেড-ব্যুটেড হয়ে, টাই ও গাউন পড়ে সমাবর্তনে আসার সিস্টেম রেখে গিয়েছে। সমাবর্তনের গাউনটি সিনথেটিক হওয়ায় বাতাসও ঢুকে না। এজন্য আমাদের দেশে সমাবর্তনের নতুন কোন সিস্টেম চালু করা যায় কিনা না সে বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। তাহলে শিক্ষার্থীরা গরমের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

তিনি আরো বলেন, আমি সবসময়ই বলি সমাবর্তন অনুষ্ঠানের চারিদিকে এভাবে আবদ্ধ না করে উন্মুক্তভাবে করতে। আর যেখানেই যাই দেখি সব আলো ফেলা হয় মঞ্চে। গ্র্যাজুয়েটদের দিকে আলো নেই। আরে, আমি কাকে সনদ দিচ্ছি সেটা দেখতে পাই না। এটা পরিবর্তন হওয়া জরুরি।

লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মো. অবদুল হামিদ বলেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অপরটি অচল। তাই গণতন্ত্রের ভিতকে মজবুত করতে হলে দেশে সত্ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। আর সেই নেতৃত্ব তৈরি হবে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিক্যুলাম হালনাগাদ করতে হবে। উচ্চশিক্ষা যাতে সার্টিফিকেট সর্বস্ব না হয় কিংবা শিক্ষা যাতে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না হয় তা দেশ ও জাতির স্বার্থে সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবর্তন বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ইমেরিটাস অধ্যাপক আলমগীর মো. সিরাজউদ্দীন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক ড. চৌধূরী মো. জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এএফএম মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম আব্দুল বারী।

সমাবর্তনে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি, এমবিবিএস, বিডিএস ডিগ্রি অর্জনকারী নিবন্ধিত ৬ হাজার ১৪ জন গ্র্যাজুয়েটকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান করেন। এছাড়া বাংলা সাহিত্যে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক এবং সেলিনা হোসেনের হাতে সম্মানসূচক ডি. লিট ডিগ্রি তুলে দেন রাষ্ট্রপতি।