বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ড. কামাল হোসেন

সুমন দত্ত: মুজিব কোট পরে যারা মানবাধিকার বিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেন তারা জাতির জনককে অসম্মান করেছেন। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে এ কথা বলেন বিশিষ্ট সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বিএনপিপন্থি ডিইউজে ও বিএফইউজের একাংশের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাসহ অন্যরা।

ড. কামাল হোসেন বলেন, কথা বলার ও মত প্রকাশের অধিকার সংবিধান দিয়েছে। এটা কেউ আইন করে কেড়ে নিতে পারে না। আমরা আদালতে প্রায়ই মৌলিক অধিকারের কথা বলি। সংবিধানে অনেক কিছু লেখা থাকলেও জনগণকে অধিকার বুঝে নিতে হয়। বাংলাদেশ চাটুকারদের দেশ না। এদেশ দালালের দেশ না। এই দেশ মৌলিক অধিকারে যারা বিশ্বাস করে তাদের দেশ। অনেকে ভাসা ভাসা বলে এদেশ মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ।এইদেশ যদি মুক্তিযোদ্ধাদের থাকে তবে কেন আজ এসব বলতে হচ্ছে? কেন বলতে হচ্ছে আমরা অধিকার থেকে বঞ্চিত। মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলি মোনাফেকের মত বলি। কোরান শরীফে আছে কাফেরের চেয়ে বেশি অপরাধী মোনাফেক।

আজ মুজিব কোট অনেকে দর্জির দোকানে বানিয়ে পড়েন। আমি পড়ি না। আমাকে বঙ্গবন্ধু নিজে তার একটা কোট দিয়েছেন। সেটা আমার কাছে অমূল্য সম্পদ ও পুরস্কার বলে মনে করি। আজ যারা মুজিব কোট পড়ে মানবাধিকার মানেন না, বঙ্গবন্ধুকে তারা অসম্মান করছেন। যারা মুজিব কোট পড়ে দুর্নীতি করেন, চুরি করেন, প্রতারণা করেন তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি অসম্মান করেন।

ডিজিটাল আইন যারা করেছেন, তারা বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করতে এসব করেছেন। বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করা সংবিধানে কথা বলার অধিকার , মত প্রকাশের অধিকার এসব লেখা রয়েছে। জাতীয় জাদুঘরে এই সংবিধান আছে। সবাই একবার সেটা দেখে আসুক।

সরকার ডিজিটাল আইন পাস করেছে। আমরা তা ফেল করাবো। তারা প্রত্যাহার করতে না চাইলে তাদেরকে ফেল করাবো। ঐক্যবদ্ধভাবে তা করবো।

তিনি বলেন, আজ মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ। সংবাদ কাটছাঁট করে দেখানো হয়। সাংবাদিকরা আমার ১০ মিনিট সাক্ষাৎকার নিলে আমি জিজ্ঞাসা করি কই সাক্ষাৎকার। তারা বলে এটা ছাপানো তো নিষেধ। আজ মিডিয়া কঠোরভাবে সেন্সর হচ্ছে। তাই আমি দেখতে চাই আজকের এই সংবাদ মিডিয়াগুলো কত শতাংশ দেখায়।

এদেশে মানিক মিয়ার মত সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়েছে। আজকের প্রজন্মকে জানতে হবে মানিক মিয়া কে? মানিক মিয়া এভিনিউ কার নামে? এসব প্রশ্ন আজ স্কুলের ছেলে মেয়েদের বলবেন। যদি সঠিক উত্তর দেয় তবে বলবো আমরা সঠিক পথে আছি। পাকিস্তান আমলে এত ক্যামেরা ছিল না। আমরা চোঙ্গা নিয়ে মানুষকে বুঝিয়েছি।

বাংলাদেশে কিছু লোক মনে করে রাস্তায় না নামলে তারা সবকিছুতে পার পেয়ে যাচ্ছে। আজ আওয়ামী লীগে এমন কিছু লোক ঢুকেছে যারা এদলের মর্যাদা নষ্ট করছে। এদের দ্বারা বঙ্গবন্ধুর সম্মান হানি হচ্ছে।

ড. জাফরউল্লা বলেন, ডিজিটাল আইন পাশ হয়েছে হুক্কা হুয়া সংসদে। এটা একটা আইন হলো। আইন বাতিল করতে হবে।

সাংবাদিক নেতা রুহল আমিন গাজী বলেন, কম্পিউটার বিক্রেতা জব্বর মিয়া মন্ত্রী হয়ে একটা জব্বর আইন করেছে। যার নাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। জব্বর মিয়াকে সেই কম্পিউটার বিক্রিতে ফিরে যেতে হবে। আর আমরা সাংবাদিক হয়েই থাকবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজ সাংবাদিকরা সৎ সাংবাদিকতা করেন না। তারা এজেন্সির সাংবাদিকতা করেন। ঘটনাস্থলে না গিয়ে এদিকে থেকে কিছু অন্যদিক থেকে কিছু এনে মিলিয়ে দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেন। এটা ভয়ঙ্কর। এটা সাংবাদিকতা না। এসব করবেন না। মরহুম আতাউস সামাদ এ ধরনের সাংবাদিকতা করতেন না। তার কাছে ৪০০ তথ্য আসলে তিনি ৪ লাইন লিখতেন। আর এই চার লাইন হতো চরম সত্য। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে লিখতেন।

সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ বলেন, আতাউস সামাদ ধর্মীয় কুপমন্ডুকতা বিশ্বাস করতেন না। তিনি আমার সঙ্গে বাইতুল মোকারমে নামাজ পড়তে গিয়ে ইমামের মুখে যখন শুনলেন ১লা বৈশাখ বেদাত, তিনি সঙ্গে সঙ্গে নামাজ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, এই ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে আমি নামাজ পড়ব না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজ কোনো কিছুর বিরোধিতা করা যায় না। এবিএম মুসা শেষ জীবনে আওয়ামী লীগের বিরোধে গিয়ে প্রাপ্ত সম্মানটুকু পাননি। আজ আতাউস সামাদ ও এবিএম মুসা বেচে থাকলে ডিজিটাইল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় অনশন করতেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম