সরকার উৎখাতে দুর্নীতিবাজরা এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের জন্য দুর্নীতিবাজরা এক হয়েছে। বিএনপিসহ দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তফ্রন্টের নামে দুর্নীতিবাজরা সরকারবিরোধী জোট গড়েছে,  তবে জনগণ তাদের ভোট দেবে না।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন। হোটেল হিলটনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এই সংবর্ধনার আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, সুদখোর-ঘুষখোর, খুনি, দুর্নীতিবাজরা একত্র হয়ে সরকারবিরোধী জোট গড়েছে। এসব চক্রান্ত সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য প্রবাসীদের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষ হত্যাকারীদের সঙ্গে জোট করতে পারে, তাদের মুখে দেশের স্বার্থের কথা মানায় না। দেশের উন্নয়ন চাইলে আগামীতেও নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সততায় বিশ্বাস করে। মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের শৃঙ্খলার স্বার্থে এবং জনগণের নিরাপত্তা দিতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আলোকচিত্রী শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের  নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সোয়া ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কের লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতা-কর্মীরা বিমানবন্দরের বাইরে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন ।

বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনাকে নিউ ইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।

এবারের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশন শুরু হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর । ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে সাধারণ বিতর্ক।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মেকিং দি ইউএন রিলেভেন্ট টু অল পিপল: গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যান্ড শেয়ারড রেসপনসিবিলিটিস ফর পিসফুল, ইকুইট্যাবল অ্যান্ড সাসটেইন্যাবল সোসাইটিস’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে তার বক্তব্য তুলে ধরবেন। বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি এবং গতবারের মতো এবারও তার ভাষণে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। বিশ্বনেতাদের সামনে রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানের পথে যে সব প্রতিবন্ধকতা সেসব তুলে ধরবেন শেখ হাসিনা।

অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ছাড়াও একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। এ ছাড়া জাতিসংঘের অধিবেশন উপলক্ষে আসা বিশ্ব নেতাদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে লন্ডনের পথে রওনা হন। সেখানে দুদিনের যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন।