সন্তান হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন মা

কেন্দুয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নিজের সন্তান হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন মা মেহেরা আক্তার। শনিবার একদিনের রিমান্ড শেষে আদলতে পাঠালে আদালতের বিচারক মেহেরা আক্তারকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জনিকে (১১) হত্যার পরিকল্পনা করে তার গর্ভধারিনী মা মেহেরা আক্তার। মেহেরার সঙ্গে সম্পর্কিত একই গ্রামের তমিজ উদ্দিন ফকিরের (তমু ফকির) ছেলে সবুজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হলে সবুজ মিয়া পুলিশ ও আদালতের কাছে স্কুল ছাত্র জনিকে হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যার পর বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রাখার ঘটনা অকপটে স্বীকার করে।

সবুজ মিয়া পুলিশ ও আদালতকে জানায় চরম শত্রুতার জন্য প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেহেরা তার নিজের সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং হত্যার পর তার লাশ গুম করার জন্য পুকুরের পানিতে বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের এস.আই ছামেদুল হক।

চলতি বছরের গত ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই স্কুল ছাত্র জনিকে পাওয়া যাচ্ছিলনা। এস.আই ছামেদুল হক জানান, জনিকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৪ সেপ্টেম্বর জনির মা মেহেরা কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর কথা বলে জনিকে কীটনাশক পান করায়।

এর পর স্কুল ছাত্র জনি ২/৩ দিন বমি করে এবং শারিরীকভাবে অনেক দূর্বল হয়ে পরে। কিন্তু তার মৃত্যু না হওয়ায় শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নীরবে তার মা মেহেরা অপর সহযোগিদের নিয়ে পুকুরে গিয়ে জনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে রাতে সবুজ, সনতু ও মেহেরা তিনজনে মিলে বস্তা বন্দী করে পুকুরে ফেলে রাখে।

তবে লোক সমাজে প্রচার করতে থাকে জনি নিখোঁজ হয়েছে। তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি শনিবার জনির বাবা আব্দুস সোবহানকে নিখোঁজের কথা বলে মাইকে সারা এলাকায় প্রচারও দেয়া হয়। ৯ সেপ্টেম্বর সকালে জনির বড়বোন পুকুরের পানিতে একটি চটের বস্তা ভেসে থাকতে দেখে বাড়ির লোকদের খবর দেয়। বাড়ির লোকজন বস্তাটি কিনারে আনতে গেলে বস্তার মুখ খুলে জনির মুখ ও হাত বেড়িয়ে আসে। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ জনির লাশ পুকুরের পানি থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

লাশের দাফন শেষে ১১ সেপ্টেম্বর জনির বাবা আব্দুস সোবহান বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এজাহারে প্রতিপক্ষের মাজু মুন্সি, বাবুল, বাচ্চু মিয়া, রইছ উদ্দিন, সাইফ উদ্দিনকে হত্যা ঘটনার জন্য সন্ধেহ করে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। পর দিন ১২ সেপ্টেম্বর আটক করে তমু ফকিরের ছেলে সবুজ মিয়াকে। সবুজ মিয়ার মেহেরাদের বাড়িতে সময়ে অসময়ে আনাগোনা করত। ধারনা করা হচ্ছে সবুজ মিয়ার সঙ্গে মেহেরার পরকিয়া সম্পর্ক ছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, সবুজ মিয়া পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা, হত্যার ঘটনা এবং হত্যার পর বস্তাবন্দী করার সময় নিজের জড়িত থাকার কথা পুলিশ ও আদালতেও স্বীকার করে। তার দেয়া জবানবন্দিতে একই গ্রামের সনতু মিয়া ও জনির মা মেহেরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জনি হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জনির মা মেহেরা সহ তার অপর দুই সহযোগি সবুজ ও সনতুকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানের নির্দেশ দিয়েছেন। এস.আই ছামেদুল হক রোববার জানান, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে আদালতে চার্জসীট দাখিল করা হবে।

প্রিন্স, ঢাকা