জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন মানে ‘কে রে’

সুমন দত্ত : নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না।  সরকার জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নামে যে আইন করেছে তাকে কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি। এটি কে রে মার্কা আইন কমিশন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ বিষয়ক শীর্ষক আলোচনা সভায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকীপার নামক সংগঠন।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, সরকার সারাদেশে নদী রক্ষা করার জন্য কমিশন তৈরি করেছে। কিন্তু এই কমিশনকে কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি। নদী বাঁচানোর জন্য আমি কাজ করলাম উদ্যোগ নিলাম। কিন্তু সরকারের অন্যরা যদি আমাকে সহযোগিতা না করে তবে আমি কীভাবে তা বাস্তবায়ন করবো। আজ যদি নদী দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে যাই এরা দলিল দেখায়। এই দলিল নকল না আসল কে জানবে? আদালতে গিয়ে তারা স্টে অর্ডার নিয়ে আসে। আমি এই স্টে অর্ডার মোকাবিলা করার জন্য কোনো আইনজীবী পাই না। আমাকে নন্দঘোষ বানিয়ে রাখা হয়েছে। আমাকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে।

সরকার আমাকে কোনো আইনি সহায়তা দেয় না। অথচ সরকারের আমি একজন ব্যক্তি। আমি মিটিং ডাকলে সরকারের কেউ আসে তো কেউ আসে না। তারা যদি না আসে তাদের বিরুদ্ধে আমি কী ব্যবস্থা নেব? সেটা এই আইনে নেই। নদী রক্ষার জন্য আমি মন্ত্রণালয়ের অন্য অফিসে গেলে আমাকে দূরে বসিয়ে রাখা হয়। কে এসেছে খবর নেয়া হয়। অথচ আমি একজন সচিব। যাদের কাছে যাচ্ছি তারা আমার জুনিয়ার। আমার অবস্থা হয়েছে কে রের মত। নদী রক্ষা কমিশনকে পাত্তাই দিতে চায় না তারা।

তিনি বলেন, সুতার নদী দেখে আমি অবাক। এভাবে কেউ নদী দূষণ করে? তাদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো উচিত। আমি বলতে চাই যাদেরকে আমরা ভোট দেই তাদের কাজটা কি?

তিনি বলেন, নদী রক্ষার জন্য আমরা শুধু সুপারিশ করতে পারি। এর বেশি কিছু করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আজ যদি বলা হয় আমাকে ধলেশ্বরী মুক্ত করতে হবে। আমিতো সেটা করতে পারবো না। কারণ যারা ধলেশ্বরীতে পাওয়ার প্লান্ট করেছে ও তার আশে পাশে মিল কলকারখানা করেছে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে হবে। সেই উচ্ছেদের ক্ষমতা আমার নাই। আজ কমিশনকে যদি এসব ক্ষমতা দেয়া হতো তবে তারা করে দেখাতো পারতো। নদী রক্ষার জন্য আমি ডিসি সাহেবদের হাতে পায়ে ধরি।

এখন থেকে আমি যদি নদী রক্ষা করতে গিয়ে ডিসিদের, বিআইডাব্লিউসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা না পাই তবে তা পত্রিকায় প্রকাশ করে দেব। সরকারের এসব কর্তৃপক্ষকে আমি ভয়ও দেখিয়েছি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে নদী দখলকারীদের উচ্ছেদের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ পায় না ডিসিরা। অথচ নদী ড্রেজিংয়ের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় হয়। কি রকম অসংগতি।

এর আগে বাপা ও বুড়িগঙ্গা রিভারকীপাররের যুগ্ম সম্পাদক শরিফ জামিল নদী রক্ষার জন্য কি করণীয় তার একটি ১১টি স্লাইডের প্রেজেনটেশন দেখান। তিনি বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো চেনার আগে তিনি নদী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন। বাংলাদেশ হচ্ছে পানি যাবার ড্রেন। গঙ্গা ব্রহ্মপুত্রের সব পানি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যায়। বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানি আসে বর্ষা মৌসুমে। বাংলাদেশে প্রচুর পানি নেই। এখানে পানির ঘাটতি রয়েছে। এটা সবাইকে জানতে হবে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর সব মানুষ সারফেস ওয়াটারকে ট্রিট করে ব্যবহার করে। শুধু আমরা এখানে ভূগর্ভস্থ পানিকে ট্রিট করে ব্যবহার করছি। এটা ঠিক নয়। এসব হতে থাকলে একদিন আমরা মহেঞ্জোদারো হরপ্পা হয়ে যাবো।

শারমিন নামের আরেক বক্তা বলেন, যে নদীগুলো নষ্ট হয়ে গেছে তাদের বিষয়ে আমাদের একটি আন্দোলন করতে হবে। আরেকটি আন্দোলন করতে হবে যে নদীগুলো এখনো দূষণ হয়নি। এখন থেকে আমাদের এসব নিয়ে কাজ করতে হবে। আপস্টিমে এমন কিছু কাজ করা হয় যে কারণে নদী ধ্বংস হয়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম