২৫ সেপ্টেম্বর বিএমএফের সম্মিলন

সুমন দত্ত: যন্ত্রশিল্পীরা সমাজে দুস্থভাবে বেঁচে আছে। তাদের কথা কেউ ভাবে না। তাদেরকে সঠিক মুল্যয়ন করা হয় না। তাদেরকে রাষ্ট্র কর্তৃক ব্রান্ডিং করা হয় না। তারা সমাজে আট দশজনের মত সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চায়।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের সংগঠন বাংলাদেশ মিউজিয়াশন ফাউন্ডেশনের (বিএমএফের) সভাপতি গাজী আবদুল হাকিম এসব কথা বলেন। এদিন সারাদেশের যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের জন্য ১৩ দফা দাবি পেশ করা হয়। পাশাপাশি তিনি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহবাগে জাদুঘর মিলনায়তনে দিনব্যাপী ৪র্থবারের মত সম্মিলন করার কথা সবাইকে জানান।

গাজী আবদুল হাকিম বলেন, ২০১৫ সালে ১ সেপ্টেম্বর বিএমফের যাত্রা শুরু হয়। এর আগে যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের কোনো সংগঠন ছিল না। আজ এই সংগঠনে অনেকে যুক্ত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। আমরা প্রচার বিমুখ। যে কারণে আমাদেরকে লোকজন চেনে না। আজ আমরা আপনাদের কাছে একারণে এসেছি কারণ আমাদের অনেকে অর্থিক অবস্থা ভালো না। আমরা অনেক কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছি।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাজ করি। বিদেশে যাই। কিন্তু আমাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। আমাদের সঙ্গে বিদেশ যাত্রী হয়ে একজন সচিব দিন প্রতি পায় ৫০০ ডলার। আর আমরা এত কষ্টে করে পাই মাত্র দিন প্রতি ২৩ থেকে ৪৫ ডলার পর্যন্ত। আমরা সরকারি গণমাধ্যমে কাজ করেও আমাদের চাকরি সরকারি নয়। আমরা বিভিন্নভাবে বঞ্চিত। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী দেশে বিভিন্ন যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্রান্ডিং করে দেয়। একজন রবিশঙ্করকে সবাই চেনে। একজন হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়াকে সবাই জানে। সানাই বাদক ওস্তাদ বিসমিল্লিাহ খাকে সবাই চেনে। অথচ আমাদের দেশের যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পীদের কেউ চেনে না। তাদের ওপর কেউ ফোকাস করে না। আজ এখানে যারা আছেন তাদের বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।

এর আগে এসব সমস্যার কথা সরকারকে জানিয়েছেন কিনা সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমরা জানিয়েছে কিন্তু আমাদের দাবিগুলো পুরন করা হয়নি। তিনি বলেন, সরকার সারাদেশে কত প্রকল্প করেছে। সেসব প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করছে। কিন্তু যন্ত্রসংগীত শিল্পীদের জন্য কোনো টাকা বরাদ্দ নেই।

ব্যান্ড শিল্পী মানাম আহমেদ বলেন, যন্ত্রসংগীত শিল্পীদের কেউ ভালো আছে তো কেউ ভালো নেই। তাই সবাইকে নিয়ে আজ কথা বলতে এসেছি। সবার সমস্যা অ্যাড্রেস করাই আমাদের কাজ। একজন সিঙ্গারের দিকে নজর থাকে সবার। কিন্তু তার পেছনে যাদের শ্রম সেদিকে কারো নজর নেই।