সরকার জনগণের ওপর প্রেতাত্মাসুলভ আচরণ করছে: রিজভী

নিউজ ডেস্ক: বিরোধী মত ও শক্তিকে কষ্ট দেওয়া, জুলুম করা আওয়ামী লীগের স্বধর্ম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘গত ৩-৪ দিনে দেশব্যাপী বিএনপির প্রায় ১৬ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। গায়েবি মামলার ছড়াছড়িতে সারাদেশে বিরাজ করছে আতঙ্কের পরিবেশ। সরকার যেন জনগণের ওপর প্রেতাত্মাসুলভ আচরণ করছে। মূলত, এদেশে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বরকত নেই। আছে শুধু মিথ্যা মামলার বরকত। বিরোধী মত ও শক্তিকে কষ্ট দেওয়া ও জুলুম করা আওয়ামী লীগের স্বধর্ম।’

রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
 
রিজভী বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পর্যুদস্তু করার জন্য সরকার এহেন অমানবিক পদ্ধতি নেই, যা তারা ব্যবহার করে না। আমরা এরই চরম প্রকাশ দেখতে পাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় দীর্ঘদিন পর অধিকতর তদন্তের নামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়ানোর ঘটনায়। এর আগে দুবার চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু প্রতিহিংসা পূরণের জন্য টার্গেট করেই সম্পূরক চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে উক্ত মামলায় জড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে বেপরোয়া ক্ষমতার আস্ফালনে আইন আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
 
চুক্তিভিত্তিক তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দ তথাকথিত নিখুঁত ও গভীর তদন্ত চালাতে গিয়ে সরকারি অনেক দলিল দস্তাবেজ গায়েব করা হয়, বা সৃজন পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির এই নেতার। তিনি বলেন, ‘যেমন বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরেও তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ‘কেন পুলিশকে ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে সভাস্থল পরিবর্তন করা হলো, সে বিষয়ে কে বা কারা সম্পৃক্ত’ (অর্থাৎ মুক্তাঙ্গন থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)- এই মূল্যবান তথ্যটি উদঘাটনের ক্ষেত্রে তিনি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেননি। বরং এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেই তিনি ক্ষেপে যেতেন বলে শোনা যায়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘‘কাহার আকন্দের দাখিল করা চার্জশিটের বর্ণনা অনুযায়ী দেখা যায়, হাওয়া ভবনে তথাকথিত ষড়যন্ত্রমূলক সভা অনুষ্ঠানের যতজন (৮/১০ জন) সাক্ষীকে তিনি ভয় দেখিয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছেন, তাদের একজনও কত তারিখে সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি। কারণ, ‘এত বড় বড় পদের মানুষদের সঙ্গে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা’- সেই সভার তারিখ কেউ মনে রাখতে পারবে না, এটা রীতিমতো বিস্ময়কর ঘটনা।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে একটি রহস্যাবৃত ঘটনা বলে মনে করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘গ্রেনেড হামলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরা নেত্রীকে ঘিরে ধরে তাকে বুলেটপ্রুফ জিপে উঠিয়ে দেন। ওই সময় জিপ লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। সেই গুলিতে তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী, সাবেক সেনা সদস্য মাহবুব নিহত হন। বুলেটপ্রুফ জিপটির জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে যায়। ওই অবস্থায় আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের সুধাসদনে পৌঁছে দেওয়া হয়।’

শেখ হাসিনার দেহরক্ষী মাহবুব কার গুলিতে মারা গেলেন, তা নিরূপণে এসপি কাহারের কোনও আগ্রহ-তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি বলেও দাবি রিজভীর। তিনি বলেন, ‘তেমনই বুলেটপ্রুফ গাড়ির গ্লাস কীসের আঘাতে ভেঙে গেল বা এমন ওজনবিশিষ্ট কোনও গাড়ি পাংচার টায়ার নিয়ে কংক্রিটের রাস্তার ওপর দিয়ে ৫ কিলোমিটার চালিয়ে ধানমন্ডির সুধাসদনে পৌঁছলো, তাও পর্যালোচনা করা হয়নি ।’

শেখ হাসিনারই দাবি করা আন্তর্জাতিক তদন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই দল ঘটনাস্থল সরেজমিন তদন্তের পর তার গাড়িটি পরিদর্শন করতে চাইলেও তা করতে দিতে তিনি ( শেখ হাসিনা) অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘কিন্তু কেন এই অস্বীকৃতি? তারও কোনও সুরাহা কাহার আকন্দের তদন্তে হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে এফবিআই দলকে তদন্তে সহায়তা না করায় অবশেষে তারা তাদের তদন্তকার্য অসমাপ্ত রেখেই ফিরে চলে যায়।’

২১ আগস্ট বোমা হামলার পুরো বিষয়টাই একটি প্রহেলিকা বলেও ভাষ্য রিজভীর। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী রাজনীতির কুটিল পাটিগণিত জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করার দেশীয় ও বৈদেশিক চক্রান্তের বিপজ্জনক ব্লুপ্রিন্ট। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার নানাবিধ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলায় সরকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে আইন আদালতকে। কারণ, আইন আদালত এখন সম্পূর্ণভাবে সরকারের হাতের মুঠোয়।’