চট্টগ্রামের চরণদ্বীপ দরবারে কারবালা মাহফিল সম্পন্ন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: আহলে বাইতে রাসুল (স.) স্মরণে তিনদিন ব্যাপী শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ দরবার শরীফের শাহী ময়দানে আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সুসম্পন্ন হয়েছে। গাউসিয়া রহমানিয়া বশরিয়া শাহীদিয়া ত্বরিকত কমিটির ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন বাদে আছর থেকে এ কারবালা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

চরণদ্বীপ দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন পীরে ত্বরিকত হযরতুলহাজ¦ শাহ সুফি শেখ আবু মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ফারুকীর (ম.জি.আ) সভাপতিত্বে ও দরবার শরীফের নায়েবে মোন্তাজেম হযরতুল আল্লামা শাহজাদা শেখ আবু মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ফারুকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলের সমাপনী দিনে প্রধান মেহমান ছিলেন ঢাকাস্থ মুহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হযরতুলহাজ্ব আল্লামা হাফেজ কাজী আবদুল আলিম রেজভী। প্রধান অতিথি ছিলেন গাউসুল আজম মাইজভান্ডারীর ওফাত শত বার্ষিকী জাতীয় কমিটির মহাসচিব ড. সেলিম জাহাঙ্গীর এবং প্রধান বক্তা ছিলেন উরকিরচর গাউসিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হযরতুলহাজ¦ আল্লামা হাছান রেজা আল কাদেরী।

কারবাল মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাউসিয়া রহমানিয়া বশরিয়া শহীদিয়া ত্বরিকত কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এম. দিদারুল আলম মানিক, পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের হেড মাওলানা মুহাম্মদ এনামুল হক কুতুবী ও মসজিদ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরে ত্বরিকত হযরতুলহাজ¦ শাহ সুফি শেখ আবু মুহাম্মদ শাহীদুল্লাহ ফারুকী (ম.জি.আ.)। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কারবালা মাহফিলে প্রতিদিন তবারুক বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন দরবারের দায়রা শাখা থেকে অসংখ্য আশেকানে ভক্তবৃন্দরা মাহফিলে অংশ নেন।

মাহফিলের সমাপনী দিনে বক্তারা বলেন, কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনা হিজরী সনের গুরুত্বকে আরো বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি সর্বকলের সবচেয়ে মনমান্তিক। প্রিয় নবীর (দ.) দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ন্যায় ও সত্যের পতাকা সমুন্নত রাখতে আপোষহীন ছিলেন।

সেদিন তাঁদের আত্মত্যাগের কারণে ইসলামের মহিমা উজ্জ্বল হয়েছে, ইসলাম পেয়েছে নব চেতনা ও শিক্ষায় আমাদের উজ্জীবিত শক্তি। বিশ্ব পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে কারবালার চেতনা ও শিক্ষায় আমাদের উজ্জীবিত হতে হবে এবং সুন্নী মতাদর্শ সমাজ গঠনসহ মুসলিম বিশ্বের পূনর্জাগরণে ইমাম হোসাইনের আদর্শ ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। আহলে বাইতে রাসুল (দ.) এর প্রতি ভালবাসা ইমানের পূর্বশর্ত। শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উন্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনা করে মুনাজাত করা হয়। আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।

প্রিন্স, ঢাকা