বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আক্কাস আহমেদের স্মরনীয় ঘটনাবলী

সুলতান আহম্মেদ: দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন, বৃহত্তম ও শ্রেষ্ট জনবান্ধব দল আওয়ামী লীগকে জনগন তৃতীয় মেয়াদেও ক্ষমতাসীন করবে। তাছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত এবং বঙ্গবন্ধু সুযোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনার দক্ষ রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মানুষের মর্মমূলে পৌছে গেছে।

এ দল বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের চমক দেখিয়ে, এক অবিশ্বাস্য উচ্চ আসনে উন্নতি করেছে। এ দলের বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। নির্বাচনের আর দেরী নেই, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। তফসিল ঘোষনার পর পরই ঘোষিত হবে আওয়ামী লীগ থেকে কারা কারা নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়েছেন। এ নিয়ে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃনমূল থেকে প্রভাবশালী কোন কোন নেতাকে বাছাই করবেন সে প্রক্রিয়াও সম্পন হয়ে গেছে।

দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সুযোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সমাজ সেবী লেখক জনদরদী ব্যাক্তিত্ব ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকতা আবু আককাস আহমেদ নেত্রকোনা এলাকায়র নিবেদিত প্রান কর্মী হিসেবে ব্যাপক কর্মকান্ডে নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের সর্বপেক্ষা সম্ভাবনাময়, প্রতিভাবানা যুব নেতা, পিতা বঙ্গবন্ধুর সাংগঠনিক উত্তরাধীকারী, ১৫ আগষ্টের নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার শেখ কামালের সাক্ষাৎ অনুচর এবং সান্নিধ্য প্রাপ্তিতে ধন্য এই মুক্তিযোদ্ধা বাকী জীবনের সতটুকু সময় জনসেবায় নিয়োজিত থাকতে চান।

এ উপলক্ষে তার জীবনের কয়েকটি স্মরনীয় ঘটনা উল্লেখ করা হলো। কিশোর জীবনটাই তার সবচেয়ে বেশি গর্বের এবং গৌরবের। তখন তিনি স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছেন মাত্র। একটি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ডাক আসে যে সময়। আর ডাক দেন সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ট বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স মাঠে লক্ষ জনতার মহা সমাবেশে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষনা করেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। আরও বললেন তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাক। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলো।

২৫শে মার্চ হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী নিরিহ বাঙ্গালী জাতির ওপর গভীর রাতে মেশিনগান সহ বিভিন্ন ভাড়ি অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার যুদ্ধের ডাক আর হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পর বাংলাদেশকে স্বাধীন করা ছাড়া বাঙ্গালীর সামনে আর কোন পথ ছিলো না। বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়লো। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধা। তাদের চার ভাই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেন। তাদের বৃদ্ধা মাও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতে চলে গেলেন। ভারত সরকার সীমান্তের ওপারে থাকার জন্য মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের পাশে একটা বাড়ি বানিয়ে দিলেন।

উল্লেখ্য এর আগে হানাদারবাহিনী তাদের গ্রামের বসতবাড়ি অগ্নিসংযোগ করে সম্পূর্ন ভূম্মীভূত করে দেয়। এপরিস্থিতেই তার জীবনের সব চেয়ে গৌরবের ঘটনাটি ঘটে। জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে যোগ দেন তিনি। বয়সের দোহাই দিয়ে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে নি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনে বীরমুক্তি যোদ্ধার বিজয় মালা গলায় পরার গৌরব অর্জন করেন। তার জীবনের দ্বিতীয় বার যে সৌভাগ্যের সুসময় আসে, সেটাকেও তিনি কম মূল্যবান মনে করেন নি।

তা হচ্ছে স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সে সময়ের টগবগে এক তরুন নেতৃত্ব, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ট পুত্র শেখ কামালের শিষ্য হয়ে দেশ প্রেমের মন্ত্রে দীক্ষা গ্রহন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তাদের তরুনদের রাজনৈতিক গুরু শেখ কামালের প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরনা ও উৎসাহেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। শেখ কামালের শিষ্য হিসাবে তার সানিধ্যে আসতে পারাকেও জীবনের শ্রেষ্ট সময় বলে মনে করেন তিনি।

তার জীবনের তৃতীয় শ্রেষ্ট সময় তার পেশা জীবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর সুযোগ পান শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করার। সে চাকরি যেমন ঝুঁকিপূন তেমন দেশপ্রেমের প্রতিভূত্ত। দেশের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়ে যেতে পারে যে কোনো একজন শুল্ক কর্মকর্তার ব্যাক্তি স্বার্থ বা গাফলতিতে।

দেশের স্বার্থ রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিতেও কখনো পিছপা হননি তিনি। নিজের ব্যাক্তি স্বার্থে দেশের স্বার্থ কখনো বিসর্জন দেইনি। আওয়ামীলীগ বিরোধী সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় কখনো আর্দশ বিসর্জন দেননি। শত বাধা-বিপত্তি এবং হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কলম ধরতে ভয় পাননি। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার বিপক্ষে, প্রচারনা বিপক্ষে কলম ধরেছেন। বই লেখেছেন। সেই পেশা জীবন এবং লেখক জীবকে শ্রেষ্ট সময় বলে মনে করেন তিনি।

এবার অবসর জীবনকে আরো মহিমান্বিত করতে এলাকার গরীব দুঃখী মানুষের সেবা করতে আগ্রাহি। মহিমান্বিত করতে চান বঙ্গবন্ধু কন্যা, মানবতা ও জনগনের জননী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনসেবায় নিয়োজিত দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতাকাতলে থেকে দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতি অব্যাহত রাখার কাজে নিজেকে নিবেদিত করতে চান। মহান আল্লাহ তালার কাছে প্রার্থনা, তার অনুগত বান্দাকে যেন এই সুযোগ দান করেন।

প্রিন্স, ঢাকা