চসিক এলাকায় জলাতঙ্ক টিকাদান ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় ব্যাপকহারে কুকুরের টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম ২০১৮ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহষ্পতিবার কর্পোরেশনের কেবি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।

স্বাস্থ্যও শিক্ষা ষ্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক এর সভাপতিত্বে এতে অন্যানেরর মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান, কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন চসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে জলাতঙ্ক রোগের সম্ভাব্য কারণ প্রতিকার সম্পর্কে একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থান করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.কামরুল ইসলাম।

এতে কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, হাজী নুরুল হক, গিয়াস উদ্দিন, এ.এফ কবির মানিক, হাসান মুরাদ বিপ্লবসহ চসিক পরিচালিত মেমন মাতৃসদন ও জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, জোনাল মেডিকেল অফিসার ও স্বাস্থ্য সহকারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজকের এ অবহিতকরণ সভার আয়োজন। সাধারণত ৫টি প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ায়। যে পাঁচটি প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ ছাড়ায় সেগুলো হল কুকুর,বিড়াল,শিয়াল,বেজি ও বানর। এছাড়াও ২৫ হাজার গবাদি প্রাণী এ রোগের শিকার হয়ে থোকে। শহরে সচরাচর কুকুরের উৎপাত বেশি এবং কুকুরে আক্রমনে মানুষ আক্রান্ত হয় বেশি।

কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনি বাধার কারণে কুকুর নিধন করা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রসংগে মেয়র বলেন জলাতঙ্ক রোগ থেকে রক্ষার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়েছে। কুকুরের কামড়ের আধুনিক ব্যবস্থাপনা, ব্যাপক হারে কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিশেধক টিকাদান, কুকুরের পরিকল্পিত সংখ্যা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষে একটি কর্মকৌশল বাস্তবায়ন চলছে। কুকুরকে প্রতিশেধক টিকা প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে এর কামড় বা আচঁড় থেকে রক্ষায় এ কর্মকৌশলের সফল বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য। তিনি এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের লক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্ঠির জন্য ক্যাম্পেইন, প্রচার- প্রচারণা, লিপলেট বিতরণসহ কাউন্সিলরদের সহযোগিতা করার আহবান জানান।

ডা.কামরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৪১ ওয়ার্ডে দু’ভাগে ভাগ করে কুকুরকে টিকা দেয়া হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে দু’জন প্রশিক্ষিত কুকুর ধারক লোক, একজন টিকাদানকারী, একজন ভ্যান ড্রাইভার নিয়োজিত করা হবে। তারা ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সহযোগিতা নিয়ে এ কর্মসূচি বাস্তাবায়ন করবে। প্রথম ধাপে টিকা দেয়া শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে, যা ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

২য় ধাপে টিাকা দেয়া শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। যা চলবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রথম ধাপে যে সকল ওয়ার্ডে টিকা দেয়া হবে সে ওয়ার্ড নম্বরগুলো হলো ৭, ১৮, ১২, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৮, ২৯, ৩৭ ও ৩১। এ কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয় সাধন করবেন সিভিল সার্জন ও চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য সহকারীগণ।

প্রিন্স, ঢাকা