বাংলাদেশের বড় পরাজয় আফগানদের কাছে

নিউজ ডেস্কঃ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা বাংলাদেশ প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছে। এমন একটা কথা ম্যাচের আগের দিন থেকে ঘুরেছে ফিরেছে। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচ মানে কি পরিকল্পনাহীন ম্যাচ? আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ যেন এক পরিকল্পনাহীন ম্যাচ খেলেছে। তার ফল ১৩৬ রানের বড় হার।

এই হারের ধকল সামলে বাংলাদেশ আগামীকাল (শ্রুক্রবার) দুবাই ফিরে কেমন খেলে সেটাই এখন দেখার বিষয়। আবুধাবিতে বৃহস্পতিবার শুরুতে ব্যাট করা আফগানদের চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষে ঠিকঠাক পরিকল্পনা কাজে লাগাতে না পারায় বড় রান করে ফেলেন রশিদ খান এবং গুলবাদিন নাইব। আফগানিস্তান পেয়ে যায় ২৫৫ রানের বড় সংগ্রহ। ব্যাটে গিয়ে বাংলাদেশ যাওয়া-আসার মিছিলে নামে। হেরে যায় বড় ব্যবধানে।

বাংলাদেশ যেন পণ করে নেমেছিল লেগ স্পিনার রশিদ খানকে তার জন্মদিনের উপহার না দিয়ে মাঠ ছাড়বে না। তার কাছেই ব্যাটে-বলে হেরেছে বাংলাদেশ।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় আফগানরা। ১০১ রানে তাদের ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৬০ রানে যখন টপ-মিডল অর্ডারের ৭ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তখন বড় জোর ২০০ রান হতে পারে এমনই মনে হয়েছিল। কিন্তু অষ্টম উইকেট জুটিতে রশিদ খান এবং গুলবাদিন গড়েন ৯৫ রানের জুটি। রশিদ খান ঝড়ো এক অপরাজিত ফিফটি তুলে নেন তার জন্মদিনে। এছাড়া গুলবাদিন খেলেন ৪২ রানের ইনিংস।

জবাবে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশও শুরু থেকে উইকেট হারাতে থাকে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ‘শব’ যাত্রায় আর বিরতি পড়েনি। শুরুতে ১৭ রানে দুই উইকেট হারনো বাংলাদেশ ৪৩ রানে হারায় ৪ উইকেট। একশ’ পেরুতেই ফেরেন দলের ৭ ব্যাটসম্যান। এরপর বড় হারের শঙ্কা দাঁড়ায় মাশরাফিদের সামনে। সেই শঙ্কায় কোন বিস্ময় চিহ্ন বসাতে পারেনি কেউ। রশিদ খান-মুজিব উরদের তোপে ৪২.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ কোচ রোডসের শিষ্যরা। হারে ১৩৬ রানের বড় ব্যবধানে।

বাংলাদেশের হয়ে এ ম্যাচে অভিষেক হওয়া বাঁ-হাতি পেসার আবু হায়দার ৯ ওভারে ৫০ রানে ২ উইকেট পান। সাকিব আল হাসান ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪২ রানের খরচায় নেন ৪ উইকেট। এছাড়া আফগানদের হয়ে মুজিব উর-গুলবাদিন নাইব এবং রশিদ খান ২টি করে উইকেট নেন। রশিদ খান ৯ ওভারে মোটে ১৩ রান দেন। এছাড়া মুজিব উর ৮.১ ওভারে খরচা করেন মোটে ২২ রান।

বাংলাদেশ আগামীকাল শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ভারতের মুখোমুখি হবে। এছাড়া আবুধাবিতে একই দিনে আফগানিস্তান খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।