নির্ভার টাইগারদের সামনে আফগান

নিউজ ডেস্ক: হোটেল থেকে মাঠের দূরত্ব ১৩৯.৫ কিলোমিটার! ঢাকা থেকে এই দূরত্বে একদিনে গিয়ে ফিরে আসতে চাইলে নিশ্চিত ভোর থেকে ব্যাগ গোছানোর তাড়া থাকবে। দুবাই থেকে আবুধাবিতে অবশ্য গাড়িতে নব্বই মিনিট। তার পরও ঝক্কিটা তো কম নয়। আজ এমনই ঝক্কি-ঝামেলা (হ্যাঁ, ঝামেলাই মনে করছে অনেকে) পেরিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে নামবে টাইগাররা।

যে ম্যাচের রস, স্বাদ, গন্ধ কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন না মাশরাফিরা। সুপার ফোরের সূচি নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর কে হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন- তারও কোনো অর্থ থাকছে না। আজকের এ ম্যাচটি তাই নেহাতই চেবানো চুইংগামের শেষ অংশটি মাত্র! তাই যতটা সম্ভব চোট-আঘাতের ঝুঁকি এড়িয়ে ‘এনার্জি সেভ’ করা যায়, সেটিই ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং এই ভাবনা থেকেই আজ দলে একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকছে।

সেটি রাখঢাক, গুড় গুড় না করে মাশরাফি পরিস্কারই জানিয়ে দিয়েছেন। মুশফিককে বিশ্রাম দিয়ে মুমিনুল, মুস্তাফিজ কিংবা রুবেলকে রেখে আবু হায়দার রনিকে দিয়ে বোলিং করানো, মিরাজের বদলে নাজমুল অপুকে- এমনকি আজ সাকিব না খেললেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এমনও ইঙ্গিত আছে যে, আজকের ম্যাচে শর্ট রানআপেও পেসারদের বোলিং করা দেখা যেতে পারে। আজকের ম্যাচটি জেতা বা হারার মধ্যে কোনো ধরনের লাভ-লোকসান দেখছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। বরং আজকের ম্যাচে কৌশলী হয়ে কালকের ম্যাচের জন্য পুরো শক্তি জমিয়ে রাখার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

ওদিকে আফগানরা কিন্তু তেতে আছে আজকের ম্যাচটি নিয়ে। দেরাদুনে টি২০ সিরিজে টাইগারদের হারানোর পর এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তাদের তাড়িয়ে নিচ্ছে। তার ওপর আবার এশিয়া কাপে লংকাকে হারিয়েছেন রশিদ খানরা। টাইগারদের তরফ থেকে শান্তির পতাকা তুললেও আফগানরা কিন্তু এখন বাংলাদেশকে পেলেই যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেয়।

গতকালই যেমন মোহাম্মদ নবী ক্যামেরার সামনে বেশ দাম্ভিকতার সঙ্গেই বললেন, ‘কালকের ম্যাচে আফগানিস্তানই ফেভারিট।’ কারণ বলতে গিয়ে যে যুক্তি তিনি তুলে ধরলেন, তা অবশ্য ফেলে দেওয়ার মতো নয়। ‘আবুধাবি আমাদের হোম গ্রাউন্ড। সেখানকার উইকেটে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি। তা ছাড়া আমাদের হাতে বিশ্বমানের দুই স্পিনার রয়েছে, রশিদ খান আর মুজিবুর রহমান। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, ওদের খেলতে কত অস্বস্তি বোধ করে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরা।’ নবী অবশ্য যা বলেননি, তা বলেছেন মাশরাফি। ‘এটা ঠিক যে, আফগানিস্তান ভালো খেলছে। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখবেন, ওরা টি২০-তে যেমন দল ওয়ানডেতে কিন্তু তেমন নয়।’ কিন্তু যদি এমনই হয় যে, আজকের ম্যাচে শক্তিক্ষয় না করে সঞ্চয় করাই টাইগারদের লক্ষ্য, তাহলে কি একটা ঝুঁকি থেকে যায় না? 

আর যাই হোক, ম্যাচটি তো মর্যাদা রক্ষারও। ম্যাচটি জিতলে না হয় স্বাভাবিক ঘটনা, হারলে তো একটু হলেও আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লাগবে, তা নয় কি? ‘আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে আমাদের রিলাক্স হওয়ার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক ম্যাচের মূল্য অবশ্যই আছে। দেশের হয়ে আমরা খেলতে নামছি। আমাদের জেতার জন্য সব চেষ্টাই করতে হবে। তবে সত্যি কথা বলতে কী, আফগানিস্তান ম্যাচটি নিয়ে ভাবনা যতটুকু ছিল, সেটি এখন নেই।’ তবে অভিষেক হতে যাওয়া নাজমুল হাসান শান্ত কিংবা মুমিনুলের মতো একাদশে সুযোগ পাওয়াদের জন্য এ ম্যাচটিই হতে পারে নিজেকে তুলে ধরার সেরা মঞ্চ। বিকেলে দুবাইয়ের টিম হোটেলের যে খবর, তাতে এ কথাগুলোই সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে যে, আফগানিস্তানকে নিয়ে অযাচিত হয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ওরা টি২০-তে দেরাদুনে জিতেছে, ওয়ানডেতে সেটি খাটবে না। নিজেদের সেরা খেলাটা খেলে সিনিয়রদের সঙ্গে আজ জুনিয়রদেরও যোগ দিতে হবে। বার্তা পরিস্কার, খেলতে হবে শক্তি বাঁচিয়ে।