জনসচেতনতাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারে

সুমন দত্ত : জনসচেতনতা বৃদ্ধি করেই খাদ্যে ভেজাল দূর করা সম্ভব। যত আইন করা হোক, জেল জরিমানার বিধান করা হোক। জনগণের মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নটার জ্ঞান না আসলে। খাবার ভেজালমুক্ত রাখতে কি করণীয়, সেই সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে, খাদ্যে ভেজাল দূর করা সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে “খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযান: প্রাতিষ্ঠানিক সংকট” শীর্ষক আলোচনায় খাদ্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভেজাল বিরোধী অভিযানে কি করণীয় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আগে নিরাপদ খাদ্য আইন ছিল না। এখন এ সংক্রান্ত আইন হয়েছে। আগে খাদ্য সম্পর্কিত একাধিক আইন ছিল। এখন আগের আইনগুলো বাদ দিয়ে সবগুলোকে একটি আইনের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে।

নতুন আইনটি ২০১৩ সালের ৪৩ নম্বর আইন হিসেবে সংসদে পাশ হয়েছে ।

নতুন আইনে খাদ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার টেবিলে পৌঁছানো পর্যন্ত ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর আমরা এই কাজে হাত দিয়েছি। নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি সকলের অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন করেন। যার বাস্তবায়ন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এর আগে কোনো সরকার এ ধরনের কোনো আইন তৈরি করেনি।

আইনটির নাম হচ্ছে, “বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ,সরবরাহ, বিপন্ন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এবং তদলেক্ষ্য একটি একটি দক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এতোসংক্রান্ত বিদ্যমান আইন রহিতক্রমে উহা পুন:প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন। এই আইনটি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র তে রয়েছে। এটি কার্যকর করতে ওই দেশগুলো ৭-৮ বছর লেগেছে। বাংলাদেশে মাত্র যাত্রা করেছে। আমাদের আশা ওইসব দেশের আগেই এই আইন বাংলাদেশ কার্যকর করতে পারবে।

আইন কার্যকরে ১৮টি মন্ত্রণালয় নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি আছে। যেখানে ভোক্তা অধিকার,বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সবাই এর সঙ্গে যুক্ত আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এক সময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার যখন ক্ষমতা নেয় তখন ৪০ লক্ষ মেট্রিকটন খাদ্য ঘাঁটিতই ছিল। এক সময় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছিল খাদ্য ঘাটতি না থাকলে বিদেশি সাহায্য আসবে না। ২০০৯ সালে ২৬ লক্ষ মেট্রিকটন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি। এখন বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ একটি দেশ। এখন উত্তরবঙ্গে কোনো মঙ্গা নাই। কেউ এখন না খেয়ে মারা যায় না। এ ধরণের কোনো খবর এখন গণমাধ্যমে আসে না।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, সরকারের মোবাইল কোর্টগুলো শুধু তাদের ওপরই অভিযান পরিচালনা করছে। রাস্তার দোকানগুলোকে তারা ধরছে না। কিংবা যেখান থেকে আমরা খাবার বানানোর উপকরণগুলো কিনি সেখানে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। তাছাড়া রেস্টুরেন্টগুলোকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। যখন তখন অভিযানের মাধ্যমে তাদেরকে অর্থদণ্ড ও গ্রেফতার করছে। মোবাইল কোর্ট কোন মানদণ্ডে ওপর এই শাস্তি দিচ্ছে তারা আজও সেটা জানে না।

বিএসটিআই প্রতিনিধি বলেন, আমাদের জনবল কম। সব জায়গায় আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারি না। আমাদেরকে কোনো স্থানে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের সাহায্য লাগে। তাদের সাহায্য ছাড়া আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, ঢালাও সব খাদ্যে ভেজাল বলা ঠিক নয়। তাহলে আমরা খাব কি। তাই আমাদেরকে এসব বলার আগে ভেবে দেখতে হবে। আমরা সবকিছুতেই ভেজাল আবিষ্কার করছি। এটা ঠিক নয়। সবাই খাবারে ভেজাল করেন না। তিনি বলেন, শাক সবজিতে যদি ফরমালিন থাকে তবে তা দূর করা যায়। শাক সবজি ৩০ মিনিট গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখলে কিংবা সিরকা অথবা লেবু জলে ডুবিয়ে রাখলে তা ভেজাল মুক্ত করা যায়।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহাফুজুল হক বলেন, রাসায়নিক দিয়ে সব খাবার পাকালে যে বিষ তা নয়। ইথোফেন নামক রাসায়নিক দিয়ে ফল পাকানো যায়। সেটা বিজ্ঞানসম্মত। কিন্তু আমাদের প্রচারটা এমন হয়েছে। যে সব খাবারের রাসায়নিককে আমরা বিষ মনে করছি। তিনি বলেন, ফরমালিন নিয়ে জনমনে আতঙ্ক রয়েছে। ফরমালিন উড়ে যায়। তাই অল্প পরিমাণ ফরমালিন দিয়ে কোনো কিছু সতেজ রাখা সম্ভব নয়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম