মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করল আইসিসি

নিউজ ডেস্কঃ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিতাড়নের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

নেদারল্যান্ডের হেগের এই আদালতের কৌঁসুলি ফাতাও বেনসৌদা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, তাতে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা -সে বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে এ মাসের শুরুতে এমন সিদ্ধান্ত আসার ধারাবাহিকতায় এই তদন্ত শুরু হলো।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আইসিসির তিন বিচারকের প্যানেল রায় দেন যে, রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে।

এর ফলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। গত মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান কমিশনও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তবে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রায় দেওয়ার এখতিয়ার আছে- এমন দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখান করেছে ইয়াংগুন। দেশটির সরকার বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিচারের এখতিয়ার আইসিসির নেই।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার অভিযোগ তুলে ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে দেশটির সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ করা হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।