সাম্প্রদায়িক হামলার চক্রান্ত চলছে :ঘাদানিক

সুমন দত্ত: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার চক্রান্ত করছে এক অশুভ চক্র। এরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এ ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের এসব ব্যক্তিদের মনোনয়ন না দেবার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। অবাধ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকার ও রাজনৈতিক দলসমূহ শীর্ষক আলোচনায় এই আহবান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, শহীদ ডা. আলিম চৌধুরির স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক আমজাদ হোসেন।

শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকারী ও তার বংশধরদের মনোনয়ন দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিছু গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী আসনে প্রার্থী মনোনয়নে জায়গাগুলো ফাকা রেখেছে। এসব জায়গায় জামাতের লোকদের দিয়ে ভরা হবে। এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। যে দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেছে তাদের লোক কীভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধে চেতনা বিরোধী কোনো প্রার্থীকে যেন মনোনয়ন না দেয়া হয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও হিন্দুদের ওপর হামলা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এসব হামলা বিএনপি-জামাত জড়িত থাকলেও অনেক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাও ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দায়ী। এমন অভিযোগ তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, আজ এ সরকারের আমলে আমাদের কেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা চাইতে মিটিং করতে হবে। সংবাদ সম্মেলন করে এসব বলতে হবে। এটা লজ্জার।

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, আমরা কেশবপুর নামক এক জায়গায় গিয়ে দেখি সেখানে বহু সংখ্যালঘুকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সেখানে ৩৬ হাজার হিন্দু ভোটার তালিকা করা হয়েছে। বাস্তবে সেখানে ৬৬ হাজার হিন্দু ভোটার ছিল। যারা বাদ গেছে তারা দলিত। এ কারণে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। সরকারকে এদিকে নজর দেয়ার আহবান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট যেভাবে সাম্প্রদায়িক হামলা এর আগে করেছে। এখনো তারা গ্রাম গঞ্জে সেভাবে হামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করছে। তিনি বলেন, সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে যে দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায় তার প্রার্থী কীভাবে নির্বাচন করল সিলেটে। নির্বাচন কমিশন এর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিল না। তিনি নির্বাচন কমিশনের এই আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন।

মুনতাসির মামুন বলেন, আজ পাকিস্তানিরা বাংলাদেশকে মডেল মনে করছে। অথচ পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা এদেশকে পাকিস্তান বানাতে চাচ্ছে। পাকিস্তানের রাজনীতি এখানে বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানের রাজনীতি কীভাবে করবে তারা? তাদেরকে এদেশে এসব করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি ভোলা থেকে মেজর হাফিজকে মনোনয়ন দেবেন। এই মেজর হাফিজের এলাকায় হিন্দুদের ওপর নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এই হচ্ছে বিএনপি।

নিজামুল হক নাসিম বলেন, সরকারের উচিত সংখ্যালঘুদের রক্ষায় বিশেষ আইন করা। হতে পারে সেটা সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন। আর এর আগে সংখ্যালঘুদের ওপর যে হামলা হয়েছে তার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা।

শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন বলেন, আজ রাজাকার মান্নানের ছেলে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য দৌড়যাপ করছে। তাকে যেন মনোনয়ন দেয়া না হয়। তিনি বলেন রাজাকারের সন্তানরা তাদের পিতার আদর্শই প্রচার করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আর্দশ তারা প্রচার করবে না। তাই সরকারকে অনুরোধ এরা যেন কোনো মতেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পায়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম