কমতে শুরু করেছে গ্যাস সংকট

নিউজ ডেস্ক: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরুর পর দেশের গ্যাস সংকট ধীর গতিতে হলেও কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংকট আপাতত সামাল দিতে পেরেছে সরকার। আর রাজধানী ঢাকাসহ শিল্প অঞ্চলগুলোতে বিদ্যমান তীব্র সংকটের বিপরীতে জোগান বেড়েছে। ফলে এই অঞ্চলেও ঘাটতি কমতে শুরু করেছে।  কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান টার্মিনাল থেকে গত ১৮ আগস্ট দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়। ওই দিন থেকে দেশে প্রথমবারের মত আমদানিকৃত এ গ্যাস পাইপলাইনে যুক্ত হয়। বর্তমানে দৈনিক ২৮ কোটি থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট চট্টগ্রামে বিতরণ করছে কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। বাকি গ্যাস বিতরণ করছে তিতাস গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানি। আগামী বছরের প্রথম ভাগেই টার্মিনালটি থেকে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।
 
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ৪০০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে উত্পাদন ক্ষমতা ২৭৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাত্ ঘাটতি রয়েছে ১২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের। এমন প্রেক্ষাপটে গত আগস্ট থেকে দেশে তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দৈনিক গ্যাস ঘাটতি ১০০ কোটি ঘনফুটের নিচে নামিয়ে আনা গেছে।
 
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে এলএনজি আসার পর সে ঘাটতি কমতে শুরু করছে। এটি ইতিবাচক। কিন্তু এলএনজি ব্যয়বহুল। তাই জ্বালানি মিশ্রণে কতটুকু এলএনজি যুক্ত হবে এবং সামগ্রিকভাবে গ্যাসের দাম কতটুকু সামাল দেয়া যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। 
 
দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলিত গ্যাস ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ঢাকা এবং এর নিকটবর্তী ১৪টি জেলায় গ্যাস বিতরণ করে তিতাস গ্যাস কোম্পানি। গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলিত গ্যাস চট্টগ্রামে না দেয়ায় তিতাসের পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। এলএনজির কিছু অংশও এতে যুক্ত হচ্ছে। ফলে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ কিছু এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।
 
তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান বলেন, তিতাসের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দরকার। এলএনজি আসার আগে দৈনিক ১৫০ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি গ্যাসের জোগান পাওয়া যেত। বর্তমানে প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুটের মত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণের হার ও পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, জোগান কিছুটা বাড়লেও তার প্রভাব এখনও জোরালোভাবে পড়েনি। ঘাটতি রয়ে গেছে। আর চাহিদাও দ্রুতই বাড়ছে। তবে শিল্পোদ্যোক্তাদের নতুনভাবে আশা দেয়া যাচ্ছে। কেননা ধীরে ধীরে এলএনজি আমদানির সাথে সাথে ঘাটতি কমতে শুরু করবে।
 
তিতাস কোম্পানির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এলএনজি আসায় আবাসিক সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেছিল সরকার। কিন্তু নতুন আবাসিক সংযোগ দেয়ার ব্যাপারে তিতাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তাই আপাতত নতুন আবাসিক সংযোগ হচ্ছে না। তবে  ধাপে ধাপে শিল্প সংযোগ বাড়ছে।