মোহনগঞ্জ থেকে গীতিকার জীবন মাহমুদকে উদ্ধার

গৌরীপুর প্রতিনিধি: চ্যানেল আই ও ডিসিআরইউ শোবিজ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী জনপ্রিয় তরুণ গীতিকার তোফায়েল আলম ওরফে জীবন মহামুদ (৩৮) কে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানার চেচরাখালি এলাকা থেকে শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ১৪সেপ্টেম্বর রাতে তাকে অচেতন করে অপহরণ করা হয়েছিল।

জ্ঞান ফেরার পর জীবন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনারদিন রাতে টিকিট কাটার উদ্দেশ্যে গৌরীপুর রেলস্টেশনে যাওয়ার পথে স্টেশন সংলগ্ন নতুন বাজার এলাকায় অজ্ঞাত ৪ জন যুবক তার মুখে মেডিসিন মিশ্রিত রুমাল চেপে ধরে তাকে অচেতন করে ফেলে। এরপর কি ঘটেছে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। পরদিন সন্ধ্যায় তার কিছুটা জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়েছে। এর কিছুক্ষন পরে মুখোশপড়া ৪ জন লোক এসে তার চোখ বেঁধে একটি সিএনজিতে উঠায়।

সেখান থেকে সিএনজিযোগে প্রায় দেড় ঘন্টা যাওয়ার পর অহরণকারীরা তাকে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে চলে যায়। এসময় স্থানীয় এক অটোরিক্সা চালক তাকে অর্ধ অচেতন অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ থানায় নিয়ে যান। জীবন মাহমুদ আরো বলেন অপহরণকারীরা তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ও টাকা কোন কিছ্ইু নেয়নি। কি কারনে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল এ বিষয়ে তিনি কোন কিছু বলতে পারেননি।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওইদিন রাত ১২টার দিকে গৌরীপুর থানার এস আই রিপন চন্দ্র সরকারের নিকট জীবন মাহমুদকে হস্তান্তর করেছে মোহনগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে রাত ২টার দিকে তাঁকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হয়। এদিকে অপহরণকারীদের হাত থেকে জীবন মাহমুদ রক্ষা পাওয়ায় তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এজন্য তারা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য জীবন মাহমুদ তাঁর নিজ এলাকা ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহর থেকে শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই আবু রায়হান (২৬) পরদিন সকালে গৌরীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন (ডায়রী নং-৫৪৪ তাং-১৫/০৯/১৮)। জীবন মাহমুদ গৌরীপুর উপজেলার শালীহর গ্রামের মৃত হাজী মহব্বত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি গৌরীপুর পৌর শহরে নতুন বাজার এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছিলেন। শহরের মধ্য বাজার এলাকায় তাঁর আই ফ্যাশন নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রিন্স, ঢাকা