চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ফরজ হয়ে গেছে: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: চলচ্চিত্র বিনোদনের এক অন্যতম মাধ্যম। মানসিক স্বস্তি ও সময় পার করার জন্য চলচ্চিত্রের কোনো জুড়ি নেই। এক সময় বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগ থাকলেও তা ভাটা পরে যায়। মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলা চলচ্চিত্র। বেশ কয়েক বছর যাবত চলচ্চিত্র জগতে সুফলের ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর তারই প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ২৮ বছর পরে নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী আর কলাকুশলী খোঁজার মিশন ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রম শুরু করল চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি।

রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল রেডিসনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

অনুষ্ঠানে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যেমন পুরনো ব্যক্তিত্বদের নিবেদন ও দায়িত্বের প্রয়োজন রয়েছে, তেমনিভাবে নতুন শিল্পীদের আবিষ্কারও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলয় যেভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে, তাতে চলচ্চিত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ফরজের মত হয়ে গেছে।’ তিনি আশা করেন নতুন মুখ খুঁজে আনার পাশাপাশি চলচ্চিত্রে লগ্নিও বাড়াবেন প্রযোজকরা।

সংস্কৃতমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের মতে, ‘নতুন মুখ আসলেই হবে না, তাদের সংস্কৃতিমনা হতে হবে, মননশীল হতে হবে। নতুন মুখ তুলে আনলেই শুধু হবে না, তাদের প্রশিক্ষিত-সুশিক্ষিত করতে হবে। প্রযোজক হিসেবে যারা বিনিয়োগ করবে, তাদের রুচির বিষয়ও আছে। চলচ্চিত্রের এই দুর্দিনে আর টুকরো টুকরো ভাবনা, চিন্তা করলে হবে না।’

তারানা হালিম ও কিছুটা সংস্কৃতমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, শিল্পীকে নিরহঙ্কারী হতে হবে। মনে রাখতে হবে, টু মাচ ইগো ক্যান কিল ইউর ট্যালেন্ট। মানুষের কাছাকাছি থাকলেই শিল্পের সাধনা পরিপূর্ণতা লাভ করবে।

পাইরেসি অ্যাক্টের ধারায় মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমে নতুন সংযুক্তির কথা বলেছিলাম, যেখানে পাইরেসি অভিযানে ফাইনের টাকা প্রযোজক পাবে। সিটি করপোরেশন দুটিকে বলেছিলাম, দুটি স্ট্রিং দিতে, আমরা যেন সেখানে নতুন চলচ্চিত্রের প্রচার করতে পারি। কিন্তু কোথাও কিছু হয়নি।

তিনি জানান, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বিএফডিসির ফ্লোর ভাড়া দিতে প্রয়োজনে বিশেষ ছাড় দেয়া হবে। ভাড়া দেয়া হবে এফডিসির ক্যামেরাও।

অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য চিত্রনায়ক- পরিচালক আলমগীর তুলে ধরেন চলচ্চিত্রাঙ্গনের সমন্বয়হীনতার কথা। তিনি জানান, আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিএফডিসিতে নানা প্রযুক্তি আনা হলেও সেসব পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত জনবল নেই। সেন্সর বোর্ডে প্রজেকশনের জন্য প্রজেক্টরটির বিকল হওয়া আর এফডিসির সাউন্ড সিস্টেমের জন্য আনা সফটওয়্যার ইনস্টল না করার কথাও জানান তিনি।