অ্যাডভোকেট রথিশ হত্যায়ঃ স্ত্রী দীপা ও প্রেমিক কামরুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিউজ ডেস্কঃ রংপুর বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌশলী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনা হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। অ্যাডভোকেট রথিশের স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ওরফে দীপা এবং তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম মাস্টারকে আসামি করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুর কোতয়ালি আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তার কাছে এ চার্জশিট জমা দেয়া হয়।

সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে রংপুর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রথিশ চন্দ্র ভৌমিক জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজার খাদেম রহমত হত্যা মামলার আইনজীবী, হিন্দুকল্যাণ ট্রাস্ট্রের ট্রাস্ট্রি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখার সভাপতি হওয়ার কারণে তার হত্যা মামলাটিকে সর্বাধিক গুরত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে।

পরকীয়া ফাঁসের ভয়ে এক মাস আগে রথিশ চন্দ্র ভৌমিক হত্যার পরিকল্পনা করে স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম মাস্টার। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের ২৯ মার্চ রাতে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয় স্নিগ্ধা। রথিশ ঘুমিয়ে পড়লে স্নিগ্ধা ও কামরুল তার গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যা করে কোট-প্যান্ট, জুতা পরিয়ে পাশের রুমে আলমারীতে লাশ লুকিয়ে রাখে।

পরদিন সকালে তাজহাটে বড় ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ির মেঝেতে রথিশের লাশ মাটিতে গর্ত খুঁড়ে চাপা দিয়ে রাখে কামরুল। ১ এপ্রিল রথিশ নিখোঁজ বা অপহৃত হয়েছে বলে রংপুর কোতয়ালি থানায় তার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক মামলা করেন। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

তদন্তের ৫ দিনের মাথায় স্নিগ্ধা ও কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রথিশের লাশ তাজহাটের ওই নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন স্নিগ্ধা ও কামরুল।

পুলিশ সুপার বলেন, যেহেতু মামলাটি চাঞ্চল্যকর, মামলা তাই এ সম্পর্কিত প্রমাণাদি বারবার পরীক্ষাসহ প্রত্যেকটি বিষয়ের খুঁটি-নাটি পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ মামলায় ৪০ জন স্বাক্ষী হয়েছেন। সিগ্ধা ভৌমিক, কামরুল ইসলাম মাস্টার, কামরুলের ছাত্র লিমন ও মাইনুল, খড় বিক্রেতা স্বপন চন্দ্র রায়, রথিশের সহকারী মিলন মোহন্তকে আটক করেছে পুলিশ। মিলন মোহন্ত কারাগারে মারা যান। খড় বিক্রেতা স্বপন চন্দ্র, শিক্ষার্থী লিমন ও মাইনুল নির্দোষ হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।