আন্তর্জাতিক ওজোন দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস উপলক্ষে নিন্মোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:
“বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এ বছর আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস যথাযোগ্যভাবে পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। পৃথিবীর জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় ওজোনস্তরের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এ দিবস সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। খবর- পিআইডি

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ওজনস্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি থেকে জীব বৈচিত্র্যকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। আর ওজনস্তর ধ্বংসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিল্পে বিশেষ করে শীতলীকরণ শিল্পে ব্যবহৃত ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন বা সিএফসি গ্যাস বড় ভ‚মিকা রাখে। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশ মন্ট্রিল প্রটোকলের আওতায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোফ্লোরোকার্বন ব্যবহার রোধে সোচ্চার হয়েছে। এ বছর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি কর্তৃক আন্তর্জাতিক ওজোন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘শীতল থাকার পরিবেশবান্ধব কৌশল, মেনে চলি মন্ট্রি প্রটোকল’ যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমি মনে করি। বিশ্বের সকল দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মন্ট্রিল প্রটোকল বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু যে ওজোনস্তরই রক্ষা পাচ্ছে তা নয় বরং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও তা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে।

বিশ্বব্যাপী শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রভাবে দিন দিন পরিবেশ দূষণ বেড়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস পালনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ওজোনস্তর ক্ষয় ও এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে পরিবেশ সুরক্ষায় আমি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস ২০১৮ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন: “বাংলাদেশে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ‘আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

 দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘Keep cool and carry on, The Montreal Protocol’ অর্থাৎ ‘শীতল থাকার পরিবেশবান্ধব কৌশল, মেনে চলি মন্ট্রিল প্রটোকল’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

১৯৮৭ সালে ওজোনস্তর রক্ষায় গৃহীত মন্ট্রিল প্রটোকল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোনস্তর রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। এ প্রটোকল বাস্তবায়নের প্রথম দিকে সিএফসি ও এইচসিএফসি-এর পরিবেশবান্ধব বিকল্প না থাকায় হাইড্রোফ্লোরোকার্বন ব্যবহার অনুমোদন করা হয়, যা উচ্চ মাত্রায় উষ্ণায়ন ক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক। ২০১৬ সালে মন্ট্রিল প্রটোকলের আওতায় পৃথিবীর সকল দেশ হাইড্রোফ্লোরোকার্বন ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে মন্ট্রিল প্রটোকলের কিগালি সংশোধনী অনুমোদন করে।

ওজোনস্তর রক্ষায় ১৯৮৭ সাল থেকে বিশ্ববাসী একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে ওজোনস্তর ক্রমান্বয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এ কার্যক্রমের গর্বিত অংশীদার। মন্ট্রিল প্রটোকল সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ‘জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি’ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকারকে প্রশংসাসূচক সনদপত্র প্রদান করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ বিকল্প গ্যাস ও যন্ত্র ব্যবহারে সকলে আরো সচেতন হবে বলে আমি মনে করি।

আমি আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় মন্ট্রিল প্রটোকল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে এবং আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস পালনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে।

আমি আন্তর্জাতিক ওজোন দিবস ২০১৮ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।    

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীরী হোক।”

প্রিন্স, ঢাকানিউজ২৪