রোহিঙ্গা সংকট ভালোভাবে সামলানো যেত: সু চি

নিউজ ডেস্ক: রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকট আরও ভালোভাবে সামলানো যেত বলে উল্লেখ করেছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি।

তিনি বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে, কিছু উপায় অবশ্যই ছিল। রাখাইনে পরিস্থিতি হয়তো আরো ভালোভাবে সামলানো সম্ভব ছিল।’

বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আঞ্চলিক বৈঠকে সুচি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এই প্রথমবারের মতো ইতিবাচক কথা বললেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী।

সেনাবাহিনীর দমনপীড়নে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয় রোহিঙ্গারা। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্ট এবং সেনাঘাঁটিতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি হামলা চালিয়েছে এ অভিযোগ করে রাখাইনের গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার বাহিনী। রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, নারীদের ধর্ষণ এবং রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম নিজেদের বাড়ি-ঘর থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে রাখাইনে গ্রামের পর গ্রামে কিভাবে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াও করেছে মিয়ানমারের সেনারা।

রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর বর্বর নির্যাতন চালানোর ঘটনা জেনেও সে সবের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেননি সু চি। বরং বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনীর হয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে পড়েন নোবেল বিজয়ী এই নেত্রী।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লড়াইয়ের জন্য ১৯৯১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয় সু চিকে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা সোচ্চার হতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

আর সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার বাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ থেকেই রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের পর জাতিসংঘের বিদায়ী মানবাধিকার হাই কমিশনার জেইদ রাদ আল হুসেইন বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন অভিযানের ঘটনায় অং সান সু চির পদত্যাগ করা উচিত ছিল।

হ্যানয়ে সু চি তার বক্তব্যে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি দীর্ঘ মেয়াদী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য আমাদের সবাইকে সমানভাবে দেখতে হবে। আমরা কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা ভাবতে পারি না।

সু চি তার বক্তব্যে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। এ বিষয়ে তাদের কারাদণ্ড দেয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের আওতায় তাদের শাস্তি। তারা রাষ্ট্রীয় গোপণ নথি সংগ্রহ করেছিল। আমরা যদি সবাই আইনের প্রতি আস্থা রাখি তবে, ওই রায়ের বিপক্ষে তাদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এই রায় কেন ভুল তার বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রমাণ তুলে ধরতে হবে তাদের ।

মিয়ানমারে গত সপ্তাহে দুই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ের সাত বছর কারাদণ্ড ঘোষণার করে সে দেশের একটি আদালত। আন্তর্জাকিভাবে এ জন্য তীব্র সমালোচনা হয় দেশটির। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সংগ্রহের অভিযোগে ওই দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে।