তিন প্রকার সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ আশরাফুল আলম

কেন্দুয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: অর্থভাবে দৈনদশা থাকলেও ক্রিকেট ফুটবল সহ সবপ্রকার খেলাধুলায় পারদর্শী আশরাফুল। অসম্ভব পারদর্শী হয়ে এবারো তিন প্রকার সাঁতারে প্রথম স্থান অধিকার করে পঞ্চম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো কেন্দুয়ার সৈয়দ আশরাফুল আলম খোকন।

উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা গ্রামের সৈয়দ ইদ্রিস আলীর ছেলে খোকন। তার বাবা উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন সৎ কর্মচারী ছিলেন। কিছুদিন আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আশরাফুলের মা সৈয়দা রুনা আক্তার জানান, তার চার ছেলে ও এক কণ্যার মধ্যে খোকন তৃতীয়। খেলাধুলার পাশাপাশি সে একজন মেধাবী ছাত্রও।

ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেনিতে অধ্যয়নরত খোকন ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ। পৌরশহরের চন্দগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে সাধারন বৃত্তি লাভ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে সকল প্রকার খেলাতে অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সে। খোকন জানায় জাতীয় ভাবে খেলাধুলায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গত বছর জেলা ভিত্তিক যাচাই বাছাইয়ের পর ১১ জনের মধ্যে একজন ছিল সে। কিন্তু পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে সে আর জাতীয় পর্যায়ে খেলায় অংশ নিতে পারেনি।

২০১৪ থেকে পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন আন্ত-বিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় ৩ প্রকার বুক, চিৎ ও প্রজাপতি সাঁতারে পারদর্শী হয়ে ৫ বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন সুলতানার কাছ থেকে পুরষ্কার গ্রহনের পর মঙ্গল বার তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানায়, মদনের মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতিশ চন্দ্র বৈশ্যের চেয়ে আরো একজন বড় সাতাঁরু হয়ে দেশের সুনাম কুড়িয়ে আনবে একদিন। লেখাপড়া, খেলাধুলা ও সাঁতারের পৃষ্ঠপুষকতার জন্য তার প্রিয় ব্যক্তিত্ব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করে।

এছাড়া খোকন একজন ভালো ডুবুরোও বটে। একটি পুকুরে যে কোন সাধারন একজন মানুষ তিন বার কিংবা চারবার ডুব দিয়ে পুকরটি এ পার থেকে ওপারে পার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে খোকন এ ডুবেই পার হতে পারে বলে তার দাবী। সে সমাজে সকলের কাছে দেশের সম্মান বয়ে আনার জন্য দোয়া চায়।

প্রিন্স, ঢাকা