স্বপ্নের উড়ান

নিউজ ডেস্ক: পান্থ শাহরিয়ারের রচনা ও সাইফুল আলম শামীমের পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে টেলিফিল্ম ‘স্বপ্নের উড়ান’।

টেলিফিল্মের গল্পে দেখা যাবে, খড়া মৌসুম। তাপদাহে পুড়ে যাচ্ছে চারদিক। খাঁখাঁ রোদের মধ্যে যেন এখনই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে আগুন। যত দূর চোখ যায় চারপাশে কোনো জনমানুষের চিহ্ন নেই। ফসলী জমিগুলো দেখে মনে হয় শত বছরের কোন এক বৃদ্ধার বলিরেখাসহ মুখমন্ডল। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে আসতে চায় না।

তবুও আলতাফ একটা ছাতা মাথায় দিয়ে বেরিয়ে যায় ঘরের বাইরে। বয়স ষাটের কাছাকাছি হবে আলতাফের। বউটা মরলো মাস তিনেক হয়। তিন তিনটা মেয়ে রেখে মরেছে বউটা। অবশ্য বেশ কয়েক বছর ধরে রোগ জ্বরায় পড়ে ছিলো বিছানায়। বড় কষ্ট পাচ্ছিল। এভাবে যেন মরে গিয়ে বেঁচে গেলো বউটা। কিন্তু আলতাফকে ফেলে গেলো এক বিশাল শূন্যতার মধ্যে। সুদের কারবার করে সে। কাজ বলতে সারাদিন গদিতে বসে থেকে অপেক্ষা করা কে কখন বিপদে পড়ে কিছু টাকা ধার চাইতে আসবে। দিন কতক হলো এভাবে গদিতে বসে থাকতে আর ভালো লাগে না আলতাফের।

একদিন ভোর বেলা যখন আলতাফ তাঁর পুরোনো স্ত্রীর কথা ভাবতে ভাবতে চোখের কোনায় জল জমে উঠেছিলো ঠিক তখনই গদিতে এসে দাঁড়ায় মাইনকা(মানিক)। বর্গাচাষী। নিজের জমিতেই যে বছর ফলন হয় না, তখন বর্গার কথা মাইনকার জমিতে হবেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলন মরলো সব। কে যেন রাতের অন্ধকারে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলো জমিতে। গরীবের তো আর শত্রুর অভাব নেই। আবার বিচার চাইবার জায়গাও নেই। মাইনকা কিছু টাকা ধার চাইতে আলতাফের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। বেঁচে থাকবার জন্য। নিছক ভাত খাবার জন্য। যদিও মাইনকার কাছে কিছু নেই শুধু তাঁর ভিটা জমিটুকু ছাড়া। অসহায় মুখে আলতাফের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে মাইনকা। উপায় কি… কারবার তো আলতাফের সেই একটাই। কিন্তু এতগুলো টাকা ধার দেবার আগে তো যাচাই বাছাই করে নেয়া চাই। এভাবেই এগিয়েছে টেলিফিল্মটির গল্প।

টেলিফিল্ম প্রসঙ্গে পরিচালক সাইফুল আলম শামীম বলেন, ‘আমার প্রথম টেলিছবি এটি। পান্থ শাহরিয়ারের রচনায় প্রথম কাজ। খুব ইচ্ছে ছিলো একসঙ্গে কাজ করার। সর্বশেষ কাজটি করলাম। আমি খুবই আনন্দিত। গ্রাম, গ্রামের মানুষের জীবন সব সময়ই আমাকে টানে। এই গল্পটিও গ্রামের প্রেক্ষাপটে আঁকা। সুদখোর মহাজনের লোভ আর লালসার স্বীকার নাবালক একটি মেয়ে। মন্দের সঙ্গে ভালোর যুদ্ধ চিরায়ত। কিন্তু সেই যুদ্ধে আমরা ভালোর জয় দেখাতে চাই। আশা করি, টেলিছবিটি সবাই উপভোগ করবেন। ভাঁড়ামি আর কৌতুকের ভিড়ে একটি সিরিয়াস গল্প করার চেষ্টা করেছি। বাকিটা দর্শক বিচার করবেন।’

এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, মামনুন হাসান ইমন, জান্নাতুন নুর মুন, ইকবাল হোসাইন, মতিউল আলম, আফ্রিবা মুমু, রনি, জুথি, রাজ্জাক রাজ, মুক্তা, আফিয়া, সাইফুল আলম শামীম, রাফি মামুনসহ আরো অনেকে। খুব শিগগির চ্যানেল আইয়ে টেলিফিল্মটি প্রচারিত হবে।