বে-টার্মিনালের জমির টাকা দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর চূড়ান্ত ধাপ বে-টার্মিনালের বেসরকারি জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রথম ধাপে ৩৫২ কোটি ৬২ লাখ টাকা জেলা প্রশাসনকে দিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ৬৭ একর জমির বিপরীতে বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে এ টাকা দেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রেডিসন চট্টগ্রাম বে ভিউ’র মোহনা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে চেক হস্তান্তর করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত ৯০৭ একর জমির মধ্যে ৬৮ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন। বাকি ৮৩৯ একর সরকারি খাস জমি। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ইতিমধ্যে সরকার অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ফিল্ড বুক তৈরি করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

৬৮ একর জমি জেলা প্রশাসন বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিলেই সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ দু’টি নির্মাণকাজের নকশার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। যেগুলো নির্মিত হলে বন্দরে কনটেইনার ও জাহাজজট এবং বন্দর এলাকার যানজট সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। বে-টার্মিনালের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে জার্মানভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সেলরন-এইচপিসি-কেএস জেভি।

বন্দরের একজন কর্মকর্তা বলেন, বে-টার্মিনাল হলে জোয়ারের জন্য অপেক্ষা ছাড়াই যেকোনো সময় ১২ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ আসা-যাওয়া করতে পারবে। ২০ ফুট লম্বা ৫ হাজার কনটেইনার নিয়ে একেকটি জাহাজ ভিড়তে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি-এনসিটিতে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার কনটেইনার নিয়ে জাহাজ আসতে পারে। বর্তমানে যেখানে সর্বোচ্চ ১৯টি জাহাজ বন্দরের জেটিগুলোতে ভিড়তে পারে সেখানে সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বে-টার্মিনালে অর্ধশতাধিক জাহাজ একসঙ্গে ভিড়তে পারবে। তিন পর্বে টার্মিনালটি গড়ে তোলা হবে। ২০২১ সালের আগেই এ প্রকল্পের প্রথম পর্বের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

প্রিন্স, ঢাকা