বিএনপি নেতা মান্নানকে কুপিয়েছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা

মণিরামপুর, যশোর প্রতিনিধি: মণিরামপুরে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা বিএনপি নেতা ইউপি সদস্য আবদুল মান্নানের উপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থাণীয়রা আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার জয়পুর গ্রামের উত্তরাইল মোড়ে একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত আবদুল মান্নান জয়পুর গ্রামের বিশ্বাস পাড়ার মৃত সাহেব আলীর ছেলে। এ ছাড়া তিনি ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র এ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেন।

সোমবার বেলা দুইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আবদুল মান্নানের স্ত্রী ফিরোজা বেগম মোবাইল ফোনে জানান, তার স্বামী রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী উত্তরাইল মোড়ে হেলালের চায়ের দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। হেলালের চায়ের দোকানের সামনে বেঞ্চে বসে এলাকার লোকজনের সাথে গল্প করছিলেন আবদুল মান্নান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জয়পুর এলাকার জামাল হোসেন নামে এক যুবকের নেতৃত্বে মুখোশধারী চার-পাঁচজন সন্ত্রাসী এসে মান্নানের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, গলা, পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তারা মান্নানের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে নিথর দেহটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়।

পরে স্থানীয়রা মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ দিকে মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন জানান, রাতে হেলালের দোকানে কেরামবোর্ড খেলা নিয়ে ইউপি সদস্য মান্নানের সাথে কয়েকজন যুবকের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কতিপয় যুবক তার উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় সোমবার সকালে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও কেউ মামলা করেনি।