জনি হত্যার মামলার আটককৃত ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

কেন্দুয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলা মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা আটকান্দিয়া গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জনি হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত জনির বাবা আব্দুস সোবহান বাদী হয়ে মঙ্গলবার কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয় একই গ্রামের মৃত সাহেদ বেপারীর ছেলে বাবুল, বাচ্চু, মাজু মুন্সি ও মৃত আরাফাত আলীর ছেলে রহিছ উদ্দিন এবং সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে মারামারির ঘটনা সংক্রান্তে শত্রুতা চলে আসছিল।

গত ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল থেকে গগডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জনি নিজ বাড়ি থেকে চলে যায়। এর পর জনি বাড়িতে ফিরে না আসার ঘটনাটি ঢাকায় অবস্থানরত জনির বাবা আব্দুস সোবহানকে মোবাইল ফোনে জানান জনির মা মেহেরা খাতুন। এই প্রেক্ষিতে জনির বড় চাচা (পালিত বাবা) আব্দুল ক্বারী শনিবার সারাদিন জনির নিখোঁজের ঘটনাটি সারা এলাকায় মাইকে প্রচার করে। ৯ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে জনির বড় বোন রত্না আক্তার বাড়ির সামনে আব্দুল বারেকের পুকুরে একটি চটের বস্তা ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়।

পরে বাড়ির লোকদের খবর দিলে বস্তাটি কিনারায় আনার জন্য টান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বস্তার মুখ খুলে একটি হাত বের হয়ে আসে। এ ঘটনাটি পুলিশে খবর দিলে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসান, ওসি ইমারত হোসেন গাজী ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই সামেদুল হক জানান, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়না তদন্ত শেষে সোমবার সন্ধ্যার আগে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। আব্দুস সোবহান জানান, কে বা কারা জনিকে অজ্ঞাতস্থানে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রেখেছে।

তবে তিনি সন্ধেহ করছেন প্রতিবেশী প্রতিপক্ষরাই এ ঘটনাটি ঘটাতে পারে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং কারা এই হত্যা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খোঁজে বের করতে আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি। এছাড়া আটককৃত বাবুল, বাচ্চু, মাজু মুন্সি, রইছ উদ্দিন ও সাইফ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিনি বলেন, আশা করি তদন্তে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে এবং হত্যকারীরাও সনাক্ত হবে। এদিকে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের সদস্যরাও স্কুল ছাত্র জনি হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করতে একটি টীম মাঠে নেমেছে।

প্রিন্স, ঢাকা