অধিকার বঞ্চিত দলিতরা রাষ্ট্রের সাহায্য চায়

সুমন দত্ত: দলিত শিশুদের শিক্ষিত করে রাষ্ট্রীয় কাজে সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশে দলিতরা অধিকার বঞ্চিত হয়ে আছে। দলিত গোষ্ঠী সঠিকভাবে চিহিৃত হয়নি। যে কারণে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ঠিকমত দেয়া যাচ্ছে না। দলিত জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মত বিনিময় সভায় এ দাবি জানিয়েছে দলিতদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন শারি। সংগঠনটি ইউএনডিপি সহযোগিতায় চলে। এদিন দলিতদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন দলিত শ্রেণির প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে আগত বক্তারা বলেন, দেশে ৩ কোটি হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১ কোটি দলিত জনগোষ্ঠী । যার মধ্যে ১৬ লাখ রয়েছে হরিজন, ৫৫ লাখ ঋষি-রবিদাস এবং ৩০ লাখ চা বাগানের দলিত। দেশের হত দরিদ্র ১৩% মধ্যে অর্ধেকই দলিত। স্যানিটেশনের আধুনিকায়নের ফলে জাত সুইপাররা তাদের চাকরি হারাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন চাকরিও মিলছে না সুইপারদের। অন্য সম্প্রদায়ের লোকরা সুইপারদের চাকরি গ্রাস করছে।

ডোম সমাজের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ায় সমস্যা বেশি। কারণ তারা সমাজের আর পাঁচ সঙ্গে মিশতে পারছে না। এর ফলে তাদের মধ্যে একধরনের মানসিক সংকীর্ণতা বিরাজ করে।

দলিতরা বাংলাদেশের মানুষ হয়েও নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত। অল্প বয়সে দলিত নারীদের বিয়ে দেয়া হয়। এতে দলিত নারীরা শারীরিক সমস্যায় পড়ে। দলিত শ্রেণির লোকদের চাকরি অন্য সম্প্রদায়ের লোকদের দিয়ে দেয়া হয়। এতে দলিত সমাজের লোকরা বেকার হয়ে পড়ে।

চাকুরী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংবিধানের ২৯(৩) অনুযায়ী দলিতদের জন্য কোটা বরাদ্দ করতে হবে এবং সেগুলোতে নাগরিক সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। দলিতদের জন্য খাস জমির স্থায়ী বন্দোবস্ত দিতে হবে। সরকারী সেফটি নেট কর্মসূচি (বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ভিজিএফ কার্ড, দুর্যোগকালীন ত্রাণ ইত্যাদি)-তে দলিত সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

দলিতদেরকে সমাজ হীন দৃষ্টিতে দেখে। আবার যারা শিক্ষিত হয় তাদের সরকার চাকরি দেয় না। দলিতদের জন্য ১ শতাংশ কোটা থাকলেও সেটার সুযোগ নিতে পারে না দলিত জনগোষ্ঠী। স্কুল কলেজে দলিত শিশুরা বৈষম্যের শিকার হয়। তাদেরকে বাপ দাদার আদি পেশায় ঠেলে দেয়া হয়। সামাজিক সকল কর্মকাণ্ডে দলিত অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করেত হবে।

জাতীয় সংসদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া দলিত শ্রেণিকে তাদের অধিকার নিয়ে আরও সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দেন শারির নেতৃবৃন্দ।