পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে: সালাম মুর্শিদী

নিউজ ডেস্ক: আজ ঢাকার পান্থপথে অবস্থিত এনভয় টাওয়ারে বিকাল ৫টায় মহান জাতীয় সংসদের ১০২ খুলনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ সালাম মুর্শিদীর সঙ্গে ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরাম (ডিকেএসএফ)’রপ্রেসিডেন্ট সি, কে সরকারের সভাপত্বিতে মহাসচিব রফিকুল ইসলাম রিপনের নেতেৃত্বে এক প্রতিনিধিদলের মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় শেষে নবনির্বাচিত সাংসদ আব্দুস সালাম মুর্শিদীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে অভিনন্দনজানানো হয়। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ খুলনা জেলা সমিতির সম্মানিত সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, নৌ পুলিশের ডিআইজি, খুলনার কৃতি সন্তান মারুফ হোসেন। এরপর তার নেতৃত্বে ঢাকাস্থ খুলনা জেলা সমিতির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সাংসদ সালাম মুর্শিদীকে কেক কেটে তার শুভ যাত্রা ঘোষণা করা হয়।

নবনির্বাচিত সাংসদ আব্দুস সালাম মুর্শিদী তার অনুভুতি ব্যক্ত করে ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরাম (ডিকেএসএফ) নেতৃবৃন্দকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট সিদ্ধান্তে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের যত উন্নয়ন হবে তার ৬০ ভাগ হবে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে। পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষ হলে এবং পদ্মা সেতুতে রেললাইন চালু হলেই খুলনার মোংলা বন্দর হবে আমদানি রপ্তানীর জন্য প্রধান বন্দর।

এখন যে সকল ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করছেন বা অন্যকোনো স্থল বন্দর ব্যবহার করছেন, সময় কম লাগার কারণে আমদানি রপ্তানীর ক্ষেত্রে মালামাল আনা নেওয়ায় খরচ অনেক কমে আসবে, যে কারণে তারা মোংলা বন্দরকে ব্যবহার করবে। তখন সকল ব্যবসায়িরা ঝুকে পড়বে মোংলা বন্দরের দিকে। সাংসদ সালাম মুর্শিদী ‘ডিকেএএফ’ নেতৃবৃন্দকে বলেন, ব্যবসায়িরা সাধারণত ব্যবসা করতে দুটি দিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকে তার একটি হচ্ছে সময় অন্যটি টাকা। একটি সময় আসবে মোংলা বন্দর খুব বেশি ব্যবহার হবে। আর মোংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়লেই ওই এলাকার মানুষের উন্নয়ন ত্বরানিত হবে। বন্দরের আমদানি রপ্তানী বৃদ্ধির সঙ্গে সেখানকার জায়গার ব্যবহারও বেড়ে যাবে, তখন জায়গা জমির দামও কয়েকগুন বেড়ে যাবে। 

তিনি বলেন, ঢাকা হতে মোংলা রেললাইন চালু হওয়ার সঙ্গে পর্যটন এলাকা হিসেবে সুন্দরবনের চাহিদাও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। পর্যটন একটি বড় ব্যবসা এবং এই পর্যটন শিল্প দিয়ে বাংলাদেশ অনেক টাকা আয় করতে পারবে। সুন্দরবন পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম বৃহত ম্যানগ্রোভ। পর্যটন এলাকা সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে এখানে অনেক ব্যবসায়িরা হোটেল, মোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি ইত্যাদি নির্মাণ করবে। এলাকার মানুষের আয় বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে খুলনা হতে পারে, বাংলাদেশের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্রস্থল। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান, খুলনায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে, এখানে এয়ারপোর্ট নির্মাণ হচ্ছে, খুলনার চালনায় অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করেছে, এখানকার রূপসা নদীটিকে যদি সুন্দরভাবে করা যায়, তাহলে খুলনা হবে পিংক সিটি।

সাংসদ সালাম মুর্শিদী ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরাম’র নেতৃবৃন্দকে আরও বলেন, খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক খুব সৎ একজন মানুষ, তিনি খুলনাকে সুন্দর পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ভবিষ্যতে তার আরও সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনা রয়েছে। খুলনার আশপাশের প্রত্যেকটি উপজেলার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। বরিশাল পর্যন্ত গ্যাস চলে এসেছে, ভবিষ্যতে তা খুলনা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তাই এলাকায় শিল্প, কলকারখানা ব্যাপকভাবে গড়ে উঠবে। খুলনা এলাকার মানুষের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা আপনাদের জায়গা জমি বিক্রি করবেন না।

আপনাদের এ জায়গা জমির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে তার মূল্য আগামী দশ বছরের মধ্যে বহুগুণে বেড়ে যাবে। বাইরের ব্যবসায়িদের এই মূহুর্তে আর কোনো জায়গায় যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই এখন থেকে তারা এদিকে ঝুকে পড়বে এবং কম দামে জায়গা জমি কিনে ব্যবসা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাইবে। তাই অপনারা আপনাদের জমিজমা বিক্রির চিন্তা একদম করবেন না। আপনাদের যে জায়গার দাম বর্তমান এক কোটি টাকা রয়েছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ হতে দশ কোটিতে পৌঁছে যাবে। খুলনা আগামীতে মেঘা বিজনেস হার্টে পরিণত হবে। খুলনার যে নদী নালাগুলো রয়েছে যা অনেক দখল হয়ে গেছে, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ভালো ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে নদী-নালাগুলোর পানি সরাবরাহের ব্যবস্থা করা হলে খুলনা পিংক সিটিতে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, খুলনার মোংলা বন্দর আন্তর্জাতিক রুট কানেকশন হচ্ছে। মোংলা বন্দর ব্যবহার করবে ভারতে, নেপাল ও ভুটানসহ অনেকগুলো দেশ। দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল খুলনার উন্নয়ন নিয়ে বর্তমান সরকারের মহা পরিকল্পণা রয়েছে। 

নবনির্বাচিত সাংসদ সালাম মুর্শিদীকে অভিন্দন জানাতে ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরাম ও ঢাকাস্থ খুলনা জেলা সমিতির সদস্য বৃন্দের মধ্যে এক সেতু বন্ধন তৈরী হয়। সকলে একত্রিত হতে পেরে পান্থপথের এনভয় টাওয়ারে অবস্থিত নবনির্বাচিত সাংসদ সালাম মুর্শিদী’র রাজনৈতিক কার্যালয় যেন এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, ঢাকাস্থ খুলনা জেলা সমিতির সভাপতি নৌ পুলিশের ডিআইজি মারুফ হোসেন, এনভয় গ্র“পের পরিচালক ব্যারিষ্টার শেহরিন সালাম ঐশি ও খুলনা জেলা সমিতির নেতৃবৃন্দ। ঢাকাস্থ খুলনা সাংবাদিক ফোরাম ডিকেএসএফ’র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম আবু সাঈদ, যুগ্ম মহাসচিব এম এ মজিদ, সাংগাঠনিক সচিব আব্দুল হালিম, দপ্তর সচিব এ কে আজাদ, মহিলা বিষয়ক সচিব লায়লা পারভীন কেয়া, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সচিব মনিরুজ্জামান বাবুল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সৈয়দ আফজাল বাকের, সদস্য মিজানুর রহমান, তাইজুল ইসলাম সবুজ প্রমূখ।