ঝুঁকিপূর্ণ ৩টি সেঁতু দিয়ে চলাচল করছে ভারী যানবাহন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি, ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেঁতু, ৫ টনের অধিক মালামাল পরিবহন নিষেধ। কথাগুলো লেখা রয়েছে গাইবান্ধা-উল্লাবাজার-সাঘাটা সড়কের বাদিয়াখালী সেঁতুতে ওঠার দুইপাশের সাইনবোর্ডেই। একই কথা লেখা রয়েছে উল্লাবাজার-পুরাতন ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার সড়কের বেইলি সেঁতুতেও। আর গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কের পুলবন্দি সেঁতুতে ওঠার আগে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি, ঝুঁকিপূর্ণ সেঁতু, ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ।

এ বছরের শুরুর দিকে যানবাহন চালকদের সতর্ক করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ সেঁতুগুলোর সামনে এমন সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি লেখা সাইনবোর্ড গাইবান্ধা সড়ক বিভাগ লাগিয়ে দিলেও থেমে নেই এসব সেঁতুর উপর দিয়ে ভারী যানবাহনের চলাচল। বেশি ওজনের মালামাল নিয়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানগুলো চলাচল করছে এসব সেঁতুর উপর দিয়ে। এসব সেঁতু ধ্বসে গিয়ে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে লক্ষাধীক মানুষের চলাচল ব্যাহত হবে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এসব সেঁতু ভেঙ্গে নতুন সেঁতু নির্মাণের দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনা এড়াতে চালকরা যাতে বেশি ওজনের মালামাল পরিবহন না করে এজন্য সতর্ক করে গাইবান্ধা-উল্লাবাজার-সাঘাটা সড়কে নির্মিত সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের বাদিয়াখালী সেঁতু, উল্লাবাজার-পুরাতন ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার সড়কে নির্মিত ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বেইলি সেঁতু ও গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কে নির্মিত সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পুলবন্দি সেঁতুতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সুত্রটি আরও জানায়, ১০.২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬৫.২৭ মিটার প্রস্থের বাদিয়াখালী সেঁতুস্থলে উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশন্যাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রীজ ইমপ্রæভমেন্ট প্রজেক্টের (ডবিøউবিবিআইপি) আওতায় একটি নতুন সেঁতু নির্মাণ করা হবে। উল্লাবাজার-পুরাতন ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার সড়কের বেইলি সেঁতুটি (স্টিলের) অপসারণ করে সেঁতুস্থলে একটি বড় কালভার্ট ও রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়া গাইবান্ধা-বালাসীঘাট ৭ কিলোমিটার রাস্তার প্রস্থ বৃদ্ধিসহ পুলবন্দিতে নতুন সেঁতু নির্মাণ প্রকল্পের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাদিয়াখালী সেঁতুটির প্রস্থ খুবই কম। কোন বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান সেঁতুর উপরে উঠলে আরেক পাশে যানবাহনগুলোকে আটকে থাকতে হয়। একই অবস্থা পুলবন্দি ও পুরাতন ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার সড়কের বেইলি সেঁতুতেও। এসব সেঁতুর দুইপাশেই গাইবান্ধা সড়ক বিভাগ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ সেঁতু লেখা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এরপরও ভারী যানবাহনের চলাচল ঠেকাতে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ সেঁতুস্থলে কোন ব্যক্তিকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি।

এসব সেঁতুর মধ্যে সত্তর দশকেরও আগে বাদিয়াখালীতে আলাই নদীর উপর নির্মিত কংক্রিটের সেঁতুটি ২০০৭ সালের বন্যায় মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ও ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল আবারও সেঁতুর উত্তরাংশের কংক্রিটের পাটাতন ধসে যায়। এতে করে প্রায় একমাস জেলা শহরের সঙ্গে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকার পর গাইবান্ধা সড়ক বিভাগ বিধ্বস্ত কংক্রিটের সেঁতুর পুরো অংশের উপর একটি বেইলি সেঁতু (স্টিলের) স্থাপন করে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলবন্দিতে আলাই নদীর উপর কংক্রিটের সেঁতু নির্মাণের আগে একটি কাঠের সেঁতু ছিল। সেই কাঠের সেঁতুর উপর দিয়েই চলাচল করতো সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার কয়েক লক্ষাধীক মানুষ। পরে আশির দশকে এই কাঠের সেঁতুস্থলে একটি কংক্রিটের সেঁতু নির্মাণ করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সড়ক উপ-বিভাগের প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীন বলেন, বাদিয়াখালীতে নতুন সেঁতু নির্মাণ প্রকল্পটি শুধুমাত্র জাইকার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেঁতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী পুরাতন ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার সড়কের বেইলি সেঁতুস্থলে কালভার্ট ও রাস্তা তৈরি এবং পুলবন্দিতে নতুন সেঁতু নির্মাণের প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ সেঁতুর বিষয়ে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এসব সেঁতু ঝুঁকিপূর্ণ নয়। যেহেতু সেঁতুগুলো পুরোনো, সেহেতু দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি সাইনবোর্ডে লিখে ভারী যানবাহনের চালকদের সতর্ক করা হয়েছে মাত্র।

প্রিন্স, ঢাকা