অতিরিক্ত পানি পান কি ঠিক?

নিউজ ডেস্ক: পানি জীবনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু অতিরিক্ত পানি পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।এতে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও কমে যায়।বিশেষজ্ঞরা শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখতে, সুস্থ থাকতে পরিমিত পানি পানের পরামর্শ দেন। কিন্তু অনেকেই মনে করেন যত বেশি পানি পান করবেন ততই সুস্থ থাকবেন। সেক্ষেত্রে তারা দিনের চাহিদার চেয়ে বেশি পানি পান করেন। এতে শরীরে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।

আপনি বেশি পানি পান করছেন কিনা বা শরীরে ওভারহাইড্রেশন হচ্ছে কিনা তা কয়েকটি উপসর্গ দেখলে বুঝা যায়। যেমন-

১. আপনি যেখানেই যান না কেন আপনার হাতে একটা পানির বোতল থাকে। যখনই বোতলটা খালি হয়ে যায় তা পূর্ণ করার চেষ্টা থাকে আপনার। আপনি হয়তো মনে করেন , সবসময় পানি খেলে আপনার শরীর ভাল থাকবে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এটা আপনার শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট পদ্ধতি নষ্ট করে নানাবিধ সমস্যা তৈরি করে।

২. কোথাও হয়তো আপনি পড়েছেন দিনে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করা উচিত। কিন্তু আপনার হয়তো জানা নেই আপনি যেসব খাবার খান তাতেও পানি থাকে। তখন আপনার যা প্রয়োজন তার  চেয়ে বেশি পানি পান করা হয় আপনার। এতে শরীরে ওভারহাইড্রেশন তৈরি হয়।

৩. কেউ কেউ মনে করেন বেশি বেশি অথবা পরিষ্কার মূত্র ত্যাগ করলে শরীরে সুস্থতা বজায় থাকবে। এ কারণে অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি পান করেন। 

৪. যদি আধঘণ্টা পর পর আপনার মূত্রত্যাগের প্রয়োজন হয় এবং অতিরিক্ত পানি পানের জন্য রাতেও বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার ওভারডিহাইড্রেশন হয়েছে।

৫. অতিরিক্ত এবং কম পানি পান-দুইটির কারণেই মাথা ব্যথা হতে পারে। বেশি পানি পান করলে শরীরের সেলগুলা বড় হয়ে যায়। মস্তিষ্কের সেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং খুলিতে ধাক্কা দেয়। এ কারণে মাথা ব্যথা দেখা দেয।

৬. অতিরিক্ত পানি পানে কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। তখন বমি বমি ভাব হয়। 

৭. অতিরিক্ত পানি পান করলে যেহেতু কিডনি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না তখন হাত, পা, ঠোঁট ফুলে যায়। আবার এতে ওজনও বাড়ে।

৮. মাংসপেশী ক্রাম্প বা দুর্বল হয়ে পড়ে অতিরিক্ত পানি পানের কারণে।ওভারডিহাইড্রেশন হলে শরীর ক্লান্তও লাগে।

এ কারণে বিশেষজ্ঞরা শরীর সুস্থ রাখতে দৈনিক ৮ গ্লাস বা ২ লিটার পানি পানের পরামর্শ দেন। সূত্র : স্টাইলক্রেজ