জিনজিরা হাসপাতাল সচল হয়নি এক যুগেও

এইচ .এম.এরশাদ, কেরানীগঞ্জ: ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ২০ শয্যা হাসপাতাল নাজেহাল অবস্থায় পরে আছে। গত এক যুগেও এই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভাব হয়নি। হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় একদিকে যেমন জিনজিরা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানটি এখন ধবংসের দাঁড়প্রান্তেএসে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, গত বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৪ সালে ৯ জানুয়ারী তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জিনজিরা ইউনিয়নের এই ২০ শয্যা হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০৬ সালের ৭ জুলাই সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের পর কিছুদিন হাসপাতালটির বহির বিভাগ চালু থাকলেও ২০০৯ সালে হাসপাতাল ভবনটি র‌্যাব-১০ তাদের কার্য়ালয় হিসাবে ব্যবহার করে। এসময় হাসপাতালটিতে বহিঃবিভাগ চালু থাকলেও গেটে র‌্যাবের সদস্যরা কালো পোশাক পড়ে অস্ত্র হাতে দাড়িয়ে থাকায় কোন রোগী ভয়ে ভিতরে ডুকতে সাহস পেতনা। ফলে এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ও দূরে সরে যায়। ২০১৫ সালের আগষ্ট মাসে র‌্যাব হাসপাতালটি ছেড়ে অন্য স্থানে তাদের কার্যালয় স্থান্তর করলেও বিভিন্ন সমস্যার কারনে এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা দিতে পারছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে একজন গাইনী ডাক্তার, একজন উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও একজন অফিস সহায়ক ছাড়া কেউ নেই। কোনোরকমে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালে কোন পানির ব্যবস্থা নেই। নেই কোন জরুরী বিভাগ। এখানে কোন রোগী আসতে দেখা যায়নি। হাসপাতালে একটি পুরুষ ও একটি মহিলা ওয়ার্ড থাকলেও সেখানে রোগীতো দূরের কথা, কোন বেডও নেই। নার্স, প্রশাসনিক লোকজন ও নিরাপত্তাকর্মী কিছুই নেই সেখানে। ফলে জিনজিরা ২০ শয্যা হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা মুখ থুবরে পড়ে আছে।

এদিকে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন সচল না হওয়ায় জিনজিরা ইউনিয়নের লোকজন বাধ্য হয়ে দূরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘ দিন র‌্যাব এ হাসপাতাল ভবনটি তাদের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করায় ও প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবেইএই হাসপাতালের করুন অবস্থা। এলাকাবাসীর দাবি, হাসপাতালটি যত দ্রুত সম্ভব যেন সচল করা হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ হাবিবুর রহমবন বলেন, হাসপাতালটি পূর্ণঙ্গ চালু করতে বহু সমস্যা রয়েছে। আমরা বহুবার উদ্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ হাসপাতালের জন্য কোন অর্থ বরাদ্ধ নেই। নেই কোন ওষুধের ব্যবস্থা। জনবল ও ডাক্তারের সংকট রয়েছে। হাসপাতালেনর মটর নষ্ট থাকায় পানির ব্যবস্থা নাই। তবে র‌্যাব হাসপাতাল ভবন ছেরে দেওয়ার পর থেকে আমরা বহিঃ বিভাগ ও গাইনী বিভাগসহ কয়েকটি বিভাগ চালু রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, জিনজিরা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপতালটি দীর্ঘদিন র‌্যাব তাদের কার্যালয় ব্যবহার করায় এখান থেকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাচ্ছিলনা। উদ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে একাধিক বার আবেদনের প্রেক্ষিতে র‌্যাব তাদের কার্যালয় সরিয়ে নেয়ার পর থেকে হাসপাতালটি সচল করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে আমরা দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান করে হাসপাতালটির সব গুলো বিভাগ চালু করা যাবে।

২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের যে জনবলের দরকার তা এখানে না থাকায় হাসপাতালটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালটি চালু করার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জনবল সংস্থানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। জনবলের পাশাপাশি রোগী ভর্তি ও তাদের খাবার ও ওষুধপত্রের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে আশ্বাস পেয়েছি। শিগগিরই এসবের সংস্থান হবে। পানির সমস্যাও দ্রুততম সময় সমাধান হবে।

প্রিন্স, ঢাকা