ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়: শামসুল হুদা

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা। তিনি বলেছেন, ইভিএমের জন্য তাড়াহুড়ার কিছু নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহারের মাধ্যমে সবার আস্থা অর্জনের পরে এ পদ্ধতি জাতীয় নির্বাচনে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা যেতে পারে। 

বুধবার রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়া (ফেমবুসা) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামসুল হুদা এ কথা বলেন। 

ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করার সময়েই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইভিএম ব্যবহার শুরু হয়। 

এ বিষয়ে সাবেক সিইসি বলেন, তাদের আমলে চালু হওয়া ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা থাকলে এখন বিতর্কের সৃষ্টি হতো না। কিন্তু গত কমিশন ইভিএমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। এই মেশিনে আরও কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনের পরই জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহারে যাওয়া উচিত।

শামসুল হুদা বলেন, ইভিএম নিয়ে তাড়াহুড়ার কিছু নেই। এখনও এটি পুরোপুরিভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এটি আরও প্রয়োগ করা উচিত। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে নয়, পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচন খুবই স্পর্শকাতর বিষয়; প্রতিযোগিতার বিষয়। ক্ষমতা দখলের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়। রুলস অব দ্য গেম, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড- এগুলো নিশ্চিত না করলে খেলা সমান হবে না। এগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক সিইসি বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব মূলত সরকারের। তারা না করতে পারলে অবশ্যই অসুবিধার কথা। কী করলে জনগণ আস্থা অর্জন করতে পারে, সরকারকেই সে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনে অনেক পক্ষ রয়েছে। তারা সবাই মিলে নিয়মানুযায়ী খেলাটা না খেললে শুধু কমিশনের একার পক্ষে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ইসি একা কখনোই ভালো নির্বাচন দিতে পারবে না। এ বিষয়টি ভুলে গিয়ে সবাই কমিশনের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।