পছন্দের গাছ কিনতে বৃক্ষ মেলায় শিক্ষার্থীদের ভীড়

গৌরীপুর প্রতিনিধি: “অপ্রতিরোধ্য দেশের অগ্রযাত্রা, ফলের পুষ্টি দেবে নতুন মাত্রা” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে তিনদিন ব্যাপী ফলদ বৃক্ষমেলা। গৌরীপুর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত এই মেলায় দেশি-বিদেশী নানা ফলদ বৃক্ষ ও কৃষি উপকরণ নিয়ে স্টল সাজিয়েছে বিক্রেতারা। সবুজের টানে মেলায় ছুটে যাচ্ছে বৃক্ষপ্রেমী ও দর্শণার্থীরা। তবে মেলায় পছন্দের গাছ কিনতে নানা বয়সী শিক্ষার্থীদের উপচে ভীড় ছিলো লক্ষনীয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি’র পক্ষে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সানাউল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার।

বক্তব্য রাখেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আশিকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ রবিউল ইসলাম, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আবু সাঈদ সরকার, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ম. নুরুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রহিম, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডাঃ মতিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সত্যেন দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুন্নাফ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ খান, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, উপজেলা ডিকেআইবি’র সভাপতি আনিছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা থেকে দেড়শতাধিক কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য প্রদর্শনীর জন্য মেলায় নিয়ে এসেছে। মেলায় সর্বমোট স্টলের সংখ্যা ১৩টি। বৃক্ষের স্টলগুলোতে টবে বা আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছে নানা গাছের চারা। যার মধ্যে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা দুর্লভ ফলদ বৃক্ষ। বুধবার দুপুরে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, মেলার স্টলগুলোতে স্কুল-কলেজ পড়–য়া নানা বসয়ী শিক্ষার্থীদের ভীড়। পাশাপাশি ছোট-বড় নানা বয়সী মানুষ ফলের চারা কিনছেন। আবার অনেকে আসছেন তার আবাসস্থলের প্রিয় বারান্দা বা ছাদটিকে সবুজায়নের জন্য গাছ নিতে।

গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রী অনার্স কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী গাছের কিনছিলেন। তাঁদের একজন নিশাত তাসনীম নোশিন বলেন, ‘ ফুলের চারা কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু মেলায় এসে ফলদ গাছ দেখে লোভ সামলানো গেল না। পেয়ারা গাছের চারা কিনেছি। ৪০ টাকা দিয়ে মেলা থেকে চালতা গাছের একটি চারা কিনেছেন প্রতিভা মডেল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারদিন। তিনি বলেন “ফলদ মেলা শুরু হয়েছে জেনেই স্কুলে টিফিনের ফাঁকে চারা কিনতে এসেছি। কিন্তু সাথে টাকা বেশি টাকা না থাকায় একটির বেশি চারা কিনতে পারিনি। আগামীকাল বাসা থেকে টাকা নিয়ে আবার আসবো মেলায় চারা কিনতে।”

উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক রইছ উদ্দিন বলেন, বাসার আঙিনা ও ছাদকে সবুজ করতে ফলের গাছ নেয়ার জন্য মেলায় এসেছি। এখন বাজার থেকে কেনা ফলে ফরমালিন মেশানো থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমি আমার পরিবারকে সবসময় সুস্থ দেখতে চাই। এজন্য আমার বাসাটাকে সবুজ করে রাখতে চাই।

যাতে এই দূষণের নগরীতে খাঁটি অক্সিজেনের পাশাপাশি নিজ গাছের টাটকা ফলটাও খেতে পারি। মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির আম, আমলকী, লটকন, জামরুল, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরাসহ দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ পাওয়া যাচ্ছে। এসব গাছ ফলসহ কিংবা ফলবিহীন বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা থেকে ২শত টাকার মধ্যে। ফলদ গাছের পাশাপাশি ক্রেতাদের আকর্ষণ ছিল বারোমাসি কমলা ও মাল্টা গাছের দিকে। বিক্রেতারা জানালেন, অল্প লাভেই তাঁরা গাছ বিক্রি করছেন। যেসব ক্রেতা বেশিসংখ্যক গাছ কিনতে চান, পছন্দের গাছ বা চারা দেখে ফরমায়েশ দিলে নার্সারি থেকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।

গৌরীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার বলেন, মেলা থেকে অন্যান্য ক্রেতাদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও গাছের চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছে বিষয়টা অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে এই মেলার উদ্দেশ্য শুধু গাছ কেনা নয়, গাছ চেনা ও চেনানোর জন্য অন্তত একবার হলেও সবার ফলদ বৃক্ষমেলা ঘুরে যাওয়া উচিত। আর স্টলগুলোতে যেনো গাছের চারা দাম সহনীয় রাখা হয় সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রিন্স, ঢাকা