অর্থ পাচার: আরএকের ৪ পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ

নিউজ ডেস্ক: অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরএকে গ্রুপের চার পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার বেলা ১১টা ১০মিনিট থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন- আরএকে পেইন্টসের পরিচালক কামারউজ্জামান, আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের পরিচালক মো. আমির হোসাইন ও এম এ মালেক ও আরএকে পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক মো. মাকসুদুল ইসলাম।

এ ছাড়া আজ বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু, আরএকে পেইন্টসের পরিচালক শায়লিন জামান আকবর, রোজা প্রোপার্টিজের পরিচালক আশফাক উদ্দিন আহমেদ, আরএকে সিরামিকসের স্বতন্ত্র পরিচালক ফাহিমুল হক এবং স্টার সিরামিকসের পরিচালক প্রতিমা সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে।

যদিও বিভিন্ন সূত্রে জানা বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাদের তলব করে চিঠি দেওয়া হয়।

মোসাদ্দেক আলী ফালুকে গত ১৪ আগস্ট প্রথম দফায় তলব করলে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সচিবের মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে সময় দিয়ে আজ আবারো তলব করে দুদক।

এর আগে গত ৩ আগস্ট মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ নয়জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠায় দুদক। চিঠিতে বলা হয়, ওই ৯ জনের বিরুদ্ধে ৮ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের প্রায় ৬৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮২ টাকা হিসাবে) দুবাইয়ে পাচার করে অফশোর কোম্পানি খুলে বিনিয়োগ, দুবাইয়ে আরো শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানেও এর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুদক বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছে, এসব ব্যক্তি দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই তারা যাতে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয় দুদকের পক্ষ থেকে।

যাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় তারা হলেন, বিএনপির নেতা ও সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু, আরএকে পেইন্টস ও আশালয় হাউজিংয়ের পরিচালক এস এ কে একরামুজ্জামান, তার ছেলে এবং আরএকে পেইন্টস ও আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের পরিচালক কামার উজ জামান, ঝুলপার বাংলাদেশ লিমিটেড ও রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পরিচালক সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান, আরএকে পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক মাকসুদুল করিম, আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের দুই পরিচালক মোহাম্মদ আমির হোসেন ও এম এ মালেক, রোজা প্রোপার্টিজের পরিচালক আশফাক উদ্দিন আহমেদ এবং আরএকে পেইন্টস ও আরএকে ক্যাপিটাল লিমিটেডের পরিচালক শায়লিন জামান আকবর।

দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল এ অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। দলের আরেক সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।