রাজনীতির হাওয়া গরম

অমরেশ রায় ও কামরুল হাসান: আসছে ভোটের দিন। আর সেই আবহ ক্রমশ উত্তাপ বাড়াচ্ছে রাজনীতির অঙ্গনে। চলতি মাসেই নানা নির্বাচনমুখী কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মিত্র জোট সম্প্রতি আগামী জাতীয় নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতির পাশাপাশি মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনের তফসিল হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারবিরোধীদের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

অন্যদিকে, রাজপথের সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপি এবং তার জোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ‘কঠোর আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার’ গঠন এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক সংলাপের দাবি আদায় না হলে আগামী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সতর্কবার্তাও দিচ্ছে তারা। এ ছাড়া নির্বাচন কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষের জোট-মহাজোটের নানা সমীকরণ মেলানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজনীতিতে এখন বেশ গরম হাওয়াই বইতে শুরু করেছে। সামনের দিনগুলোতে যা আরও গনগনে হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বিশ্নেষকরা।

এমন প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ‘ডিজিটাল কারচুপি’র শঙ্কা জানিয়ে বিরোধিতা করছে বিএনপি। বামপন্থি দলগুলোর একটি বড় অংশও ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। এ ইস্যুতেও রাজপথ গরম হতে পারে।

অবশ্য রোববারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন হবেই। এই নির্বাচন ঠেকানোর শক্তিও কারও নেই। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে না কিংবা অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বাধাও দেবে না। বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ কিংবা আলোচনা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে অক্টোবরের শেষ ভাগ অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তফসিল ঘোষণার পরপরই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছোট আকারের ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ হবে বলে জানানো হয়েছে সরকারের দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে। সে ক্ষেত্রে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন হতে পারে বর্তমান সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন। এসব কারণে সেপ্টেম্বর মাসকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নামার ‘যথার্থ সময়’ হিসেবে বিবেচনা করছে সরকারি দল। একই বিবেচনায় আন্দোলনে নামার জন্যও এ মাসকে ‘উপযুক্ত সময়’ হিসেবে মনে করছে বিরোধী মহল। ফলে একদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, অন্যদিকে আন্দোলনের হুমকি বনাম তা মোকাবেলার পাল্টা হুমকি মিলিয়ে চলতি মাসকে আগামী দিনের রাজনীতির ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে সব মহল থেকেই।

আওয়ামী লীগে আন্দোলন মোকাবেলা ও নির্বাচনের প্রস্তুতি :আওয়ামী লীগে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে আলাদা নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন করে প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই বঙ্গবন্ধু এভিনিউর নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও আলাদা নির্বাচনী সেল কাজ শুরু করবে। দলের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া নির্বাচনে জনমত দলের পক্ষে আনতে মানুষের মধ্যে প্রচারের লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতার চিত্রসংবলিত পুস্তিকা, তথ্যচিত্র ও ভিডিওচিত্র তৈরির কাজও চলছে।

ক্ষমতাসীন দলের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইকাজও এগিয়েছে অনেকটা। ৩০০ আসনেই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জয়ী হতে সক্ষম প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে দল ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে দফায় দফায় জনমত জরিপ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ থেকে এর মধ্যেই জোট-মহাজোট শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে, আগামী নির্বাচনের ধরন নিয়েও সরকারি মহলে নানা আলোচনা রয়েছে। বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো নির্বাচন বর্জন করলে মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ৩০০ আসনে আলাদাভাবে এবং জোট-মহাজোটের বাইরের দলগুলোকে অধিক সংখ্যায় নির্বাচনে নিয়ে আসার কথা ভাবা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি না এলে ৩০০ আসনে এককভাবে এবং বিএনপি এলে মহাজোটগত সমঝোতায় নির্বাচনে যাবে তার দল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে দলের একটি অংশ বেরিয়ে নতুন আলাদা দল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

বিএনপি অংশ না নিলে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অধিকসংখ্যক দলকে নির্বাচনে আনার চেষ্টাও চলছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে বামপন্থি আটটি দলের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক বাম জোটের’ শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই জোটের শরিক সিপিবি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি তিনি টেলিফোনে কথা বলেছেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সঙ্গে। বৈঠক অথবা ফোনালাপ করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ অন্যদের সঙ্গে। গণতান্ত্রিক বাম জোট নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনও পরিস্কার করেননি। তবে তারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতৃত্বাধীন কোনো জোটেই তারা যুক্ত হবেন না।

নির্বাচনের মাঠে দল ভারী করতে ১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমমনা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন দলকে জোটে আনার চেষ্টাও চলছে। বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল এলায়েন্স (বিএনএ) তথা জাতীয় জোটসহ নয়টি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে ১৪ দলের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠক করে সরকারের শরিক হিসেবে থাকার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ১৪ দলের বর্তমান শরিকদের এতে আপত্তি থাকায় দলগুলোকে মহাজোটে যুক্ত করা হতে পারে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি দলীয় ফোরামের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস্তুতির পুরো কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের প্রথমেই শুরু হয়ে মাসের শেষদিকে চূড়ান্ত রূপ পাবে। বড়জোর তা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, জোট শরিকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে!

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা প্রায় প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, বিএনপি ২০১৪ সালের মতো এবারও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ-জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সেটা তাদের জন্য মারাত্মক ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ চক্রান্ত আবারও শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে।

বিএনপি ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবেলার কৌশল প্রণয়ন প্রক্রিয়াও চলছে সরকারি দলে। এক্ষেত্রে সরকারবিরোধীরা মাঠে নেমে নাশকতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালালে আইনগত প্রক্রিয়ায় এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় রাজনৈতিকভাবে মাঠ দখলের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ, জনসভাসহ নানা কর্মসূচি নেবে। রাজপথে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানের কর্মসূচিও ঘোষণা করতে পারে। ১৪ দলের সর্বশেষ বৈঠকে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, নির্বাচন নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে ১৪ দল ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত মাঠে থাকবে।

বিএনপির টার্গেট কঠোর আন্দোলন :এদিকে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দলকে পুরোপুরি সংগঠিত করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে দলটি। এসব কার্যক্রম শেষে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কিংবা পরপরই রাজপথে কঠোর আন্দোলনে যেতে চাইছে দলটি। আর এ আন্দোলন শুরুর জন্য মধ্য সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরকে নিজেদের ‘ভাগ্য নির্ধারণের মাস’ হিসেবে গণ্য করছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আগামী আন্দোলন আর জাতীয় নির্বাচনকে তারা বাঁচা-মরার লড়াই হিসেবে দেখছেন। সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করে কর্মকৌশল নির্ধারণ করার কৌশল নিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। সরকারের ফাঁদে যাতে পা না পড়ে, সে জন্য প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে আলোচনা আর বৈঠক করে কর্মকৌশল নির্ধারণ করছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে দলটি ধাপে ধাপে আন্দোলনে যাওয়ার কৌশল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে আন্দোলনের গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।

এর আগে ক্ষমতাসীন দলকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায়ই বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দলের নীতিনির্ধারক নেতারা। অন্যদিকে আগামী আন্দোলন সফল করতে ২০ দলীয় জোট শরিকদের আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ চলছে। শরিক জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়ে তাদের আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় করার প্রক্রিয়াও শেষ করেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, এর আগে ধাপে ধাপে আন্দোলনে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণার উদ্যোগও ছিল তাদের। গত শনিবার দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। এ কর্মসূচির অজুহাতে সরকারকে হার্ডলাইনে যাওয়ার সুযোগ দিতে চান না বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি নেতারা। একই বিবেচনায় আন্দোলনে যাওয়ার আগে ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ার বিষয়টিকেও প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছেন তারা।

এ ক্ষেত্রে সরকারের বাইরে থাকা দল, সংগঠন ও ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক অথবা আলোচনা চলছে বিএনপির। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টিসহ সরকারের বাইরে থাকা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। কয়েকটি দল জাতীয় ঐক্যে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না হলেও যাতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকে- এমন কৌশলও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বামপন্থি দলগুলোর নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক বাম জোট’ ছাড়াও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মতো দলও রয়েছে।

এদিকে চলতি মাসের মধ্যেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে পুরো মাসজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছেন সংশ্নিষ্ট নেতারা। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ করার পরিকল্পনাও নিয়েছেন তারা। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের সমাবেশের পর চাঁদপুরে একটি সমাবেশের চিন্তা রয়েছে তাদের। বিএনপির অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলেও এসব কর্মসূচিতে তারাও সমর্থন দেবেন। আর ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর এক প্ল্যাটফর্মে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের এক নেতা।

অন্যদিকে, আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজও চলছে। দ্রুত দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গকরণসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, তফসিলের আগে সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ইসি পুনর্গঠন তাদের ন্যায্য দাবি। এসব দাবি পূরণে তারা সর্বাত্মক আন্দোলনে নামবেন। দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্যও করা হবে।

সূত্র: সমকাল