জুডিশিয়াল ক্যু করে পাকিস্তানের মতো অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ: নাসিম

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, জুডিশিয়াল ক্যুর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার উত্খাত করে পাকিস্তানের মতো অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আজকে ফ্রণ্ট হচ্ছে, কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা তো অনেককে চিনি। অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে বলতে হয়, অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে বলতে হয়, যারা কিছু দিন আগেও এখানে জুডিশিয়াল ক্যু করে গণতন্ত্রান্ত্রিক সরকার উত্খাতের চেষ্টা করেছিল। এটা আজকে প্রকাশিত হয়ে গেছে। একজন বিশিষ্ট আইনজীবী, আইনজ্ঞ কীভাবে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে ব্যবহার করে জুডিশিয়াল ক্যু করে পাকিস্তানের মতো অবস্থা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে, ১৪ দলের নেতৃবৃন্দের দৃঢ়তার কারণে ওই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন চক্রান্ত শুরু হয়েছে, কীভাবে এই নির্বাচনকে প্রতিহত করা যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন বানচাল করে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে চলতি মাসের ১৮ তারিখ থেকে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত মাঠে থাকবে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ১৪ দল সমাবেশ করবে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারই নির্বাচনকলীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। সংবিধানে এটাই আছে। আমেরিকা, ইউরোপ, ভারতসহ সারা পৃথিবীতে এভাবেই নির্বাচন হয়। মালয়েশিয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ভোটে নির্বাচনকালীন সরকারের পরাজয় হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপির কোন সুযোগ নেই। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা বা না করার বিষয়টি ইসির এখতিয়ার।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যখনই নির্বাচন আসে, ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নেওয়ার সময় আসে, তখনই একটি অশুভ মুখচেনা মহল তত্পরতা শুরু করে দেয়। নির্বাচন করা জনগণের অধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাও একটি রাজনৈতিক দলের অধিকার। জনগণের রায়কে আমরা সকলেই হাসিমুখে বরণ করে নেব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অর্থহীন সংলাপের পক্ষে ১৪ দল নয়। সংলাপের মানে হচ্ছে এই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া, দীর্ঘায়িত করার একটা চক্রান্ত। এই সংলাপের অর্থই হলো দেশে একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যে পরিস্থিতির মাধ্যমে দেশে একটা অসাংবিধানিক সরকার যেন প্রতিষ্ঠা করা যায়। এ জন্যই সংলাপের কথা বলা হয়। এর সঙ্গে ১৪ দল একমত নয়, ১৪ দল ছাড় দেওয়ার পক্ষে নয়। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। নির্বাচন কমিশন তার নীতি অনুযায়ী সবাইকে সমান সুযোগ দেবে, আমরা সেটা বিশ্বাস করি। বর্তমান সরকারের অধীনেই সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই।

জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ, এজাজ আহমেদ মুক্তা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, গণতন্ত্রীর পার্টির ডা. শাহাদাত হোসেন, ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ড. অসিত বরণ রায়, গণ-আজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: ইত্তেফাক