হেলিকপ্টারে অফিস করছেন ইমরান, বিতর্কের ঝড়

নিউজ ডেস্ক: খরচ কমাতে প্রতিদিন গাড়ির বদলে হেলিকপ্টারে চড়ে অফিস যাচ্ছেন পাকিস্তানের নয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে ক্ষমতায় আসার পর সরকারি ব্যয় কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এখন হেলিকপ্টারে চড়ে অফিসে গিয়ে বিতর্ক আর সমালোচনা ঝড়ে পড়েছেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ পত্রিকা জানিয়েছে, বানিগালায় নিজের বাসভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভবনে ইমরান যাতায়াত করছেন হেলিকপ্টারে। অথচ নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পর্যন্ত ইমরান বলেছেন যে, তিনি পাকিস্তানের অর্থনীতির খাত চাঙা করতে চান। অর্থনৈতিক সংকটমুক্ত করতে হলে জনপ্রতিনিধিদেরকে বুঝেশুনে খরচ করতে হবে। সাধারণ জীবনযাপন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ বাড়িতে না থাকার কথাও জানান তিনি। ইমরান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ৫২৪ জন পরিচারক এবং ৮০টি গাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে ৩৩টি বুলেটপ্রুফ। তিনি বলেন, আমি কেবল দুজন পরিচারক রাখবো।

কিন্তু সেই ইমরান খানই কিনা এখন বাসা থেকে অফিস যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে করে। আর এমন খবরে পাকিস্তানজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্যোশাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। তিনি বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি বনি গালা থেকে অফিস যেতে সড়ক পথে যে খরচ হয় আকাশ পথে সেটা অনেক কম। কিলোমিটারে মাত্র ‘৫৫ রুপি’।

এদিকে পিটিআই’র এমএনএ আলি মোহাম্মদ খান হেলিকপ্টারে চড়ার বেশ কিছু সুবিধা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য পাঁচ থেকে সাতটি গাড়ি, আবার রাস্তায় সুরক্ষা লাগে। হেলিকপ্টারে অফিস গেলে রাস্তা বন্ধ করাও লাগে না। তাই তিন মিনিটের হেলিকপ্টার যাত্রাই সস্তা।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম বলছে, বনি গালা থেকে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার, যা আট নটিক্যাল মাইল। ফলে একবারের যাত্রায় খরচ হচ্ছে এক লাখ ২৮ হাজার রুপি। যা মোটেও সস্তা নয়, উল্টো বেশ ব্যয়বহুল।