গফরগাঁওয়ে গণপিটুনিতে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক-২


জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে স্কুল শিক্ষার্থী রিয়াদ (১৫) কে হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলর তদন্তকারী কর্মকর্তা গফরগাঁও থানার এস.আই মাসুদ কামাল জানান, ব্যবসায়ী কাজিম উদ্দিনকে (৫৫) এই মামলায় গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও জিঙ্গাসাবাদের জন্য রফিকুল ইসলামকে (৩০) আটক করা হয়েছে। নিহত রিয়াদের ফুফা আব্দুর রাজ্জক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। এতে ঘটনাস্থল ঘাগড়া টাউয়ারের মোড় এলাকার ৯ ব্যবসায়ীসহ অজ্ঞাত আরো ৭-৮জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উথুরী গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহিন মিয়া ও বাক প্রতিবন্ধী মাবিয়া বেগম দম্পতির ছেলে রিয়াদ স্থানীয় ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঘাগড়া টাউয়ারের মোড় এলাকায় ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলামের মুদি দোকানের তালা ভেঙে চুরি চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা রিয়াদকে ধরে নির্মম গণপিটুনি দিয়ে ফেলে রাখে। পরদিন বৃহস্পতিবার ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে প্রেরণ করেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় নিহত রিয়াদের ফুফা আব্দুর রাজ্জাক বৃহস্পতিবার রাতে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রিয়াদের বাবা সৌদি আরব প্রবাসী, মা বাক-প্রতিবন্ধী। রিয়াদের কিছুটা মানসিক সমস্যা ছিল। প্রায়ই সে রাতের বেলা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে যেত। পরে আবার ফিরে আসতো। ঘটনার দিন ভোর ৫টার আগে কাউকে কিছু না বলে রিয়াদ বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে চোর সন্দেহে তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। চুরি করলে তাকে থানায় দেওয়া যেত। কিন্তু মেরে ফেলার মতো অপরাধ সে করেনি।