প্রাণের ভয়ে দেশে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিজয় ও হিমালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি:   খুন হবার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে একটি পরিবার। তাদের বাবা সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হবার পর তাদেও জীবন এখন পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, ফলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ওরা।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মানুষ গুম, খুন এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণসহ বড় বড় অপরাধ আমাদের দেশে হরহামেশাই হচ্ছে, বহু আগেই বিচার বিভাগের কর্মচারী এবং পুলিশ বিভাগকে টি.আই.বি শীর্ষ দূর্নীতিবাজ বলে রিপোর্ট দিয়েছে। এ দেশের আপরাধীরা আইনের ফাঁকে বেরিয়ে নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধ সংগঠিত করে যাচ্ছে, নিরীরহ মানুষ তাদের কাছে সম্পূর্ন জিম্মি। পুলিশ রিপোর্ট হলেও এর কোন সুরাহা হচ্ছে না। আবার অনেক পুলিশ দূর্নীতিবাজ এবং সন্ত্রাসীদের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আছে ।

রফিক আহ্মেদ রাজু ছিল বি.এন.পি একজন নেতা। বি.এন.পি’র অন্যান্য নেতা-কর্মীর মত রফিকের কাছ থেকে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবী করতো আর হুমকি দিত। একদিন সন্ত্রাসীরা রফিকের বাসায় এসে তার বড় ছেলে এমরান আহমেদ বিজয়ের সামনেই হুমকি দিয়ে বলে ‘বি.এন.পি’র আমলে অনেক ব্যবসা করেছ, সময়মতো ৫ লাখ টাকা না দিলে তোমার পরিবারের সবাইকে গুম করে ফেলবো’ বলে চলে যায়। রফিক চাঁদা না দেয়ায় সত্যি সত্যি সন্ত্রাসীরা তাকে গুম করে। তার স্ত্রী তামান্না আকতার তন্নী গুলশান থানার রিপোর্ট করে জিডি নং ২৭০৯। ঘটনাটি বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ পেলে সন্ত্রাসীরা তন্নীকে হুমকি দিতে থাকে, তন্নী পুলিশের কাছ থেকে কোন সহযোগীতা না পেয়ে স্বামী হারিয়ে সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তার দুই সন্তান এমরান আহ্মেদ বিজয় এবং ইমারন আহ্মেদ হিমালয়কে নিয়ে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেয়।

এই পরিবারের মর্মান্তিক কাহিনী সাপ্তাহিক চিত্রবাংলা, ২৮শে জানুয়ারী ২০১১, ৩রা মার্চ ২০১১, ৩০শে নভেম্বর ২০১২, সাপ্তাহিক বর্তমান দিনকাল ১ নভেম্বর ২০১২, সাপ্তাহিক অপরাধচিত্র ২রা মার্চ ২০১১, ২৩শে অক্টোবর ২০১২ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সাংবাদিক রবিন তন্নীর করুন কাহিনীর তথ্য পত্রিকায় প্রকাশসহ সহযোগিতা করায় সন্ত্রাসীরা রবিনকে পঙ্গু করে দেয়। The International Human Rights Defenders & Press Society (IHRDPS) তন্নীর মর্মান্তিক ঘটনা তদন্ত করে এর সেক্রেটারী জেনারেল এবং Universal Environmental Human Rights Foundation (UEHRF)এর ফাউনন্ডার প্রেসিডেন্ট, শহিদুল ইসলাম খান, 1) Prime Minister’s Office, 2) Chief Justice, Supreme Court of Bangladesh, 3) Ministry of Law, 4) Ministry of Home Affairs, 5) National Human Rights Commission, 6) Police Headquarters, 7) Amnesty International সহ বহু দেশি বিদেশী সংস্থার কাছে তামান্না আক্তার তন্নী এবং তার সন্তানদের জীবন বাঁচাতে সহযোগীতার জন্য চিঠি দেন কিন্তু কোন ফল হয় নাই।

রফিকের স্ত্রী ও সন্তানরা দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় তার স্বামী রফিক আহমেদ রাজুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। ভয়ে রফিকের সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা কেউই মামলা করে নাই। কারণ মামলা করলেই সন্ত্রাসীদের হাতেই তাদের মৃত্যু হবে।

পরিবারটি পুলিশের উপর কোন আস্থা না থাকায় এমরান আহমেদ বিজয় ঢাকা ক্রাইম রিপোর্টারস্ ইউনিটির প্রেসিডেন্টের নিকট দেশে তাদের বর্তমান অবস্থা কি তা জানাতে ই-মেইলের মাধ্যমে অনুরোধ করেন। বিজয়ের অনুরোধে সংগঠনের একটি টিম তদন্তে নেমে জানতে পারেন যে, রফিকের খুনিরা এখনো সক্রিয়। রফিকের বারিধারার পুরনো বাড়ির সাবেক কেয়ারটেকার নজরুল ইসলাম এবং বারিধারার সিনিয়র সিকিউরিটি আবু সাঈদকে সন্ত্রাসীরা রফিকের আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে তামান্না, বিজয় ও হিমালয়ের ছবি দেখিয়ে তাদের খোঁজ দিতে পারলে পুরস্কার দেয়ার লোভ দেখায়।

যেহেতু রফিকের বড় সন্তান বিজয়ের সামনেই রফিককে সন্ত্রাসীরা চাঁদার জন্য হুমকি দিয়েছিল ফলে বিজয় সন্ত্রাসীদের চিনে ফেলায় তার জীবন পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যবেক্ষণে বোঝা যায়, এই পরিবারের সবাইকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়াই সন্ত্রাসীদের মূল লক্ষ্য। কারণ তাদের মেরে ফেলতে পারলেই রফিকের খুনের মামলা করার কেউ থাকবে না।