প্রত্যাশিত বিদেশি পর্যটক নেই কক্সবাজারে


কক্সবাজার প্রতিনিধি : পাহাড় ও সমুদ্রবেষ্টিত কক্সবাজার যেন শিল্পীর রঙের তুলিতে আঁকা কোনও ক্যানভাস। বিশ্বের অন্যান্য সমুদ্রসৈকতের তুলনায় রূপে ও দৈর্ঘ্যে এগিয়ে কক্সবাজার। কিন্তু এবার এখানে প্রত্যাশিত বিদেশি পর্যটকের দেখা নেই। তাদের উপযোগী বিনোদনের সুযোগ না থাকাই এর কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন মৌসুম ছাড়াও প্রতি বছর ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। এবারের ঈদেও বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে ছিল একই চিত্র। তবে বিদেশি পর্যটক সমাগম হাতেগোনা। অথচ গত কয়েক বছরে কক্সবাজারে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের বেশ কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্ট। তবু বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দিনে দিনে কমছে।
কক্সবাজারে প্রত্যাশিত বিদেশি পর্যটক না থাকা প্রসঙ্গে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে যেমন উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে, কক্সবাজারে তা নেই। এখানে থাকার জন্য হোটেল-মোটেল সব রয়েছে। কিন্তু বিদেশিদের উপযোগী বিনোদন নেই, যেমন- সাগরপাড়ে সূর্যস্নান ও কোলাহলহীন ঘুরে বেড়ানোর পরিবেশ।
বিদেশি পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারে বেড়ানোর কোনও ধরনের গাইড না থাকাও সমস্যা মনে করছেন কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার। তিনি মনে করেন, বিদেশি পর্যটকরা যেমন বিনোদনে অভ্যস্ত তা এখনও কক্সবাজারে গড়ে ওঠেনি।’
সি-গাল হোটেলের সহকারী ম্যানেজার নূর-এ আলম মিথুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদেশি পর্যটকরা সূর্যস্নানে অভ্যস্ত। কিন্তু কক্সবাজারে তেমন পরিবেশ না থাকায় তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’ তার মন্তব্য, কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটক বাড়ানোর জন্য সৈকতকে পরিচ্ছন্ন ও হকারমুক্ত রাখার পাশাপাশি সরকারের এক্সক্লুসিভ জোনের প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।
বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে টেলিভিশন, অনলাইন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান। তার কথায়, ‘বিশ্বের অন্যান্য সৈকতের মতো কক্সবাজারের সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’
এদিকে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে পর্যটন শিল্প বিকাশে অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটক সমাগম বাড়াতে রয়েছে ব্যাপক পরিকল্পনা। টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ পর্যটন, নাফ ট্যুরিজম, ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতের মেরিন ড্রাইভ রোডকে ঘিরে ১০টি আলাদা জোন তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে শিগগিরই।
এসব তথ্য জানিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (পর্যটন ও প্রটোকল) এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, ‘বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে আলাদা বিনোদন জোন গড়ে উঠলে আমাদের এখানে তাদের আগমন বাড়বে।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, বিদেশি পর্যটকদের জন্য কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রেললাইন প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। টেকনাফে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করে তা বাস্তবায়নের কাজও চলছে। এছাড়া কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে পরিকল্পনার আওতায় আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে ঈদুল আজহার ছুটিতে লাখো দেশি পর্যটকের সমাগম হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন স্পট। ঈদে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবসহ দলবেঁধে এসেছেন তারা। নবদম্পতি, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ছাড়াও ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, ইনানি সমুদ্রসৈকত, টেকনাফ, রামু ও মহেশখালীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।