কক্সবাজার সৈকত পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত


কক্সবাজার প্রতিনিধি : ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা পাঁচদিনের সরকারি ছুটি। আর এ পাঁচদিনের ছুটি কাটাতে পাহাড়, সমুদ্র আর ঝর্ণার টানে যান্ত্রিক শহরের মানুষগুলো ছুটে আসছেন কক্সবাজারের পানে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করতে ঈদের প্রথমদিনেই প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমুদ্র নগর কক্সবাজার।
বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) নাগাদ সে পর্যটকের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ২ লাখ। চলতি মাসের শেষ দিন পর্যন্ত পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত থাকবে সমুদ্র সৈকত।
পর্যটকদের এমন আগমনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে ৪০০ কোটি টাকা ব্যবসা হবে এমনটাই আশা করছেন হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ, ঝিনুক ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার আগের দিন থেকেই কক্সবাজারে হাজার দশেক পর্যটক অবস্থান করছিল। ঈদের প্রথমদিন সকালেই এদের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও ১০ হাজার পর্যটক। এদের বেশিরভাগই রাতের মধ্যে কক্সবাজার শহর ত্যাগ করবে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নতুন পর্যটক আসতে শুরু করবে।
আরও জানায়, ঈদকে কেন্দ্রকে ঢেলে সাজানো হয়েছে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পকে। হোটেল, মোটেল, রোস্তারাঁর শোভা বাড়াতে ভবনে করা হয়েছে রং চুনকাম। ধুয়েমুছে আসবাবপত্র পরিবর্তন করে আনা হয়েছে নতুনত্ব। দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে নতুন পণ্য। শুঁটকিসহ রকমারি পণ্যের দোকানিরা পর্যটক আকর্ষণে নতুন করে দোকান সাজাচ্ছেন। যানজট এড়াতে শহরে ঢোকার সড়কগুলোতে বেড়েছে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা। মোট কথা সব জায়গায় নতুনত্বের ছাপ।
শহরের পাশাপাশি নবরুপে সাজানো হয়েছে কক্সবাজার জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রগুলো। দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, শহরের বৌদ্ধমন্দিরের পাশাপাশি রামুর রংকোট, ১০০ ফুট শয্যা বৌদ্ধমূর্তি, ডুলহাজারার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মহেশখালির আদিনাথ মন্দির ও সোনাদিয়ার প্যারাবন এবং টেকনাফের মাথিনের কূপসহ সব পর্যটনকেন্দ্রগুলো অতিথিদের আগমনের প্রতীক্ষার প্রহর গুণছে।
এ বিষয়ে দরিয়ানগর পার্কের উদ্যোক্তা আবু সায়েম ডালিম বলেন, পর্যটকসহ স্থানীয় অতিথিদের বরণে আমরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিশেষ করে শিশু বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দোলনা, রাইট শেয়ারিং, ইলেকট্রিক নগরদোলাসহ বেশ কয়েকটি নতুন রাইট আনা হয়েছে। প্রথম দিনে স্থানীয়সহ আসা পর্যটকদের বেশ সাড়া পেয়েছি।
এ বিষয়ে হোটেল, মোটেল মালিক সমিতির মুখপাত্র কলিম উল্লাহ বলেন, ঈদের প্রথম দিনে কক্সবাজার হিন্দু ধর্মালম্বী প্রায় ২০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছে। তবে দ্বিতীয় দিন থেকে শহরের সব হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস শতভাগ বুকিং রয়েছে। যা থাকবে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। এছাড়া ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ৬০ শতাংশের ঊর্ধ্বে বুকিং রয়েছে।
কক্সবাজারের তারকা মানের হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী রুমি বলেন, সব রুমিই বুকিং। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত শহরের তারকামানের হোটেলের কোনো কক্ষ ফাকা নেই। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে দু’টি প্যাকেজ রয়েছে আমাদের।
কক্সবাজার হোটেল, মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন কক্সবাজারে কমপক্ষে ২ থেকে আড়াই লাখ পর্যটক অবস্থান করবে। আশা করছি, পর্যটন সেক্টরে ঈদের পরের এক সপ্তাহে কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।
প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে কক্সবাজার শহর ও সমুদ্র সৈকতের নিরাপত্তায় ৪৫০ জন পুলিশ, র‌্যাব, বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটক হয়রানি রোধে সমুদ্র সৈকতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দু’টি মোবাইল টিম রয়েছে।