বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে গোলাম সারওয়ার ছিলেন আপসহীনঃ কাদের

নিউজ ডেস্কঃ দেশবরেণ্য সাংবাদিক, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৃহস্পতিবার সমকাল সম্পাদকের প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে গোলাম সারওয়ার ছিলেন আপসহীন। একটি আদর্শে বিশ্বাসী হয়েও তিনি সকলের কাছে ছিলেন গ্রহণযোগ্য। কলম সৈনিক গোলাম সারওয়ার ছিলেন রণাঙ্গনেরও মুক্তিযোদ্ধা।’

তিনি বলেন, ‘গোলাম সারওয়ারের লেখায় জাদু ছিল। তার লেখা অখণ্ড মনযোগ দিয়ে পড়েছি। তার লেখা একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যেত না।’

গোলাম সারওয়ারের শূন্যতা অপূরণীয় এবং তার বিদায় নিঃস্ব করে দিয়েছে বলেও এ সময় উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

গত ২৯ জুলাই অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন ৭৫ বছর বয়সী সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় তাকে। গত ১৩ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার।

গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ারের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে নিয়ে আসা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যরাতে মরদেহ নেওয়া হয় তার উত্তরার বাসভবনে। এরপর রাতে মরদেহ রাখা হয় বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে।

বুধবার দুপুরে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে তার জন্মস্থান বরিশালের বানারীপাড়া নেওয়া হয়। বানারীপাড়া মডেল ইনস্টিটিউশন মাঠে তার প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল নামে। শোকার্ত মানুষ তাদের প্রিয় দুলালের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রিয় সন্তানকে।

বানারীপাড়া থেকে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে প্রায় চার দশকের আবাসস্থল উত্তরায় শেষবারের মতো ফেরেন গোলাম সারওয়ার। সেখানে বেদনাবিধুর পরিবেশে মসজিদের ভেতর তার দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেন মুসল্লিরা। জানাজা শেষে রাতে আবারও গোলাম সারওয়ারের মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় তার প্রিয় কর্মস্থল সমকাল কার্যালয়ে। সেখানে সমকাল পরিবারের সদস্যরা প্রিয় অভিভাবককে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল সোয়া ৯টার দিকে সমকাল কার্যালয়-সংলগ্ন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসমানী হল মাঠে গোলাম সারওয়ারের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর সকাল পৌনে ১১টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের মানুষ এখন শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সাংবাদিকতার বাতিঘর গোলাম সারওয়ারকে।

শহীদ মিনার থেকে দুপুর ১টায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নেওয়া হবে তার পাঁচ দশকের আড্ডাস্থল জাতীয় প্রেস ক্লাবে। সেখানে সহকর্মীরা তাকে শেষ বিদায় জানাবেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হবে একাত্তরের রণাঙ্গনের এই মুক্তিযোদ্ধাকে। জোহরের নামাজের পর তার চতুর্থ জানাজা হবে প্রেস ক্লাব চত্বরে। আসরের নামাজের পর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শেষ শয্যায় শায়িত হবেন তিনি।