বগুড়ার ধুনট উপজেলার ২০ পয়েন্টে চাঁদাবাজি!

নিউজ ডেস্কঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের নেতার স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে এই চাঁদাবাজি। দেখার কেউ না থাকায় অন্তত ২০টি পয়েন্টে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ভটভটি থামিয়ে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। এতে পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধুনট উপজেলা সদরসহ ১০টি ইউনিয়নের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন রুটে প্রায় ২০০টি ভটভটি, ৫০০টি ইজি বাইক, ২০০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ২ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চলাচল করে। এসব রুটে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের ৪-৫টি পয়েন্টে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে। ধুনট উপজেলা অটোরিকশা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি, পৌরসভা, বগুড়া জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, বগুড়া জেলা পিক আপ মালিক সমিতি, কান্তনগর বাজার শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে রীতিমত রশিদ ইস্যু করে চাঁদাবাজি চলছে।
চাঁদার রশিদ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, এসব সংগঠনের কর্মীরা সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ধুনট বাজারসহ ২০টি পয়েন্টে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, ভটভটি, ইজিবাইক, হিউম্যান হলারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায় করে। ধুনট বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় ইউনুস আলী, ধুনট বাজারের পোষ্ট অফিস এলাকায় টুংকু মিয়া, ধুনট জিরো পয়েন্ট এলাকায় রঞ্জুন মিয়া, কান্তনগর এলাকায় মোজাহার আলী ও সুলতান মিয়া, আরকাটিয়া এলাকায় মডিফ মিয়া, জোড়শিমুল এলাকায় শাহীন মিয়া, সোনাহাটা এলাকায় দুলাল, গোসাইবাড়ী সাতমাথা এলাকায় ভোলা, এলাঙ্গী বাজারে বাবলু, মথুরাপুর বাজারের তিনটি পয়েন্টে ইঞ্জিল হোসেন, বাবু মিয়া, বাদশা ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে চাঁদার অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির টাকা থেকে আদায়কারীদের মজুরি হিসাবে প্রতিদিন ২০০ টাকা দেয়া হয়। অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।

ধুনট থেকে গোশাইবাড়ী রুটের ভটভটি চালক শুকুর আলী জানিয়েছেন, ১০ কিলোমিটার পথে ৫টি স্থানে বাধ্যতামূলক ৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদা তোলা হয়। পৌরসভায় প্রতিদিন ১০ টাকা টোল দেওয়া হলেও লাইসেন্স দেওয়া হয় না। ধুনট পৌরসভার সচিব শাহীনুর ইসলামের ভাষ্য, পৌরসভার রাজস্ব আদায়ের জন্য পৌর এলাকার রাস্তা প্রতি বছর ইজারা দেওয়া হয়। তাই ইজারাদার লোক নিয়োগ করে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করে।

কান্তনগর বাজারের চেইন মাষ্টার (চাঁদা আদায়কারী) সুলতান মাহমুদ দাবি করেছেন, তিনি ধুনট উপজেলা অটোরিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কান্তনগর বাজার সমিতির নামে ১০ টাকা করে আদায় করেন। শ্রমিক নেতা ফজলুল হক মিলন প্রশাসন ম্যানেজ ও শ্রমিকদের কল্যাণের নামে টাকাগুলো নিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে মিলনের দাবি, সে বৈধভাবেই চাঁদা আদায় করছে। ধুনট থানার ওসি খান মো: এরফান চাঁদাবাজির ঘটনা জানা না থাকার দাবি করে বলেছেন, অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।