দেশবরেণ্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার চিরনিদ্রায় শায়িত

নিউজ ডেস্ক:  দেশবরেণ্য সাংবাদিক, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন । বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- সমকালের প্রকাশক এ. কে. আজাদ, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এস এম শাহাব, উদ্দিন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম, সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, সমকালের নগর সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ ও বিজনেস ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার ইমরান কাদির।

গোলাম সারওয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন- তার ভাই গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, জামাতা মিয়া নাইম হাবিব, পুত্র গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জন ও গোলাম সাব্বির অঞ্জন।

এর আগে দুপুরে গোলাম সারওয়ারের পাঁচ দশকের আড্ডাস্থল জাতীয় প্রেস ক্লাবে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীসহ দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় । সেখানে তার চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। 

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গোলাম সারওয়ারকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পরে বিএনপির পক্ষে একটি প্রতিনিধিদলও গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পর্যায়ক্রমে সাংবাদিকদের নানা সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং গোলাম সারওয়ারের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

প্রেস ক্লাবে নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাংবাদিকতার বাতিঘর গোলাম সারওয়ারের মরদেহে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, র‌্যাব মহাপরিচক বেনজির আহমেদ, বেসরকারি সংগঠন ‘নিজেরা করি’র খুশী কবিরসহ সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান ।

শহীদ মিনারের আগে সকালে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় তার প্রিয় কর্মস্থল সমকাল কার্যালয়ে। সেখানে সমকাল পরিবারের সদস্যরা প্রিয় অভিভাবককে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল সোয়া ৯টার দিকে সমকাল কার্যালয়-সংলগ্ন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসমানী হল মাঠে গোলাম সারওয়ারের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৯ জুলাই অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন ৭৫ বছর বয়সী সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় তাকে। গত ১৩ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ।

মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ারের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে নিয়ে আসা হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যরাতে মরদেহ নেওয়া হয় তার উত্তরার বাসভবনে। এরপর রাতে মরদেহ রাখা হয় বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে।

বুধবার দুপুরে গোলাম সারওয়ারের মরদেহ হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে তার জন্মস্থান বরিশালের বানারীপাড়া নেওয়া হয়। বানারীপাড়া মডেল ইনস্টিটিউশন মাঠে তার প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল নামে। শোকার্ত মানুষ তাদের প্রিয় দুলালের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রিয় সন্তানকে।

বানারীপাড়া থেকে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে প্রায় চার দশকের আবাসস্থল উত্তরায় শেষবারের মতো ফেরেন গোলাম সারওয়ার। সেখানে বেদনাবিধুর পরিবেশে মসজিদের ভেতর তার দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নেন মুসল্লিরা। জানাজা শেষে রাতে আবারও গোলাম সারওয়ারের মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়।