আমরা জাতীয় ঐক্য তৈরি করার চেষ্টা করছি: মওদুদ

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আমরা জাতীয় ঐক্য মঞ্চ তৈরি করার চেষ্টা করছি। এই লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগির জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে উৎখাত করব। তা না হলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের আয়োজনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংগঠনের সভাপতি ডা. মো. আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রমুখ।

মওদুদ বলেন, শোনা যাচ্ছে বিনা শর্তে সংলাপ হতে পারে, ফোনে সংলাপ হতে পারে, অনানুষ্ঠানিক সংলাপ হতে পারে। আবার শোনা যাচ্ছে বিএনপির সঙ্গে কোন সংলাপই হবে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যাই বলা হোক না কেন তাদের আর মাত্র ২-৩ মাস সময় আছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর হতে চলল অরাজক সরকারের। বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের কাছে কোন দায়বদ্ধতা তাদের ছিল না। তার অনেকগুলো উদাহরণ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে উধাও হয়ে গেল। সোনা তামা হয়ে গেল, পাথর ও কয়লা গায়েব হয়ে গেল অথচ এ পর্যন্ত একজনও গ্রেপ্তার হল না। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা হল কেউ গ্রেপ্তার হল না। এর দু’টো কারণ থাকতে পারে। এক এরা সরকারের মদদপুষ্ট মানুষ। আরেকটা হল দুই পক্ষের জন্য দুই আইন। নিজেদের বেলায় প্রয়োগ হবে না। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জন্য প্রয়োগ হবে।

মওদুদ বলেন, সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নতুন করে প্রমাণিত হল। এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরোপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। সেখানে সবকিছু করেছে পুলিশ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের অবস্থা দেখলে দেশে কোন সরকার আছে বলে মনে হয় না।