বিভিন্ন সূচকে সাফল্য আসলেও শিক্ষার মানে দেশ পিছিয়েছে

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিভিন্ন সূচকে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করলেও শিক্ষার মানে দেশ পিছিয়েছে বলে মনে করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ ও উত্তম চর্চার বিকাশে এফএম বেতারের ভূমিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মত ব্যক্ত করেন।

দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিভিন্ন সূচকে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করলেও শিক্ষার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে নেতিবাচক কিছু সমালোচনা রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে যদি সুশিক্ষায় বা মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করে সক্ষম মানবসম্পদে পরিণত করা না যায়, তাহলে টেকসই উন্নয়ন কঠিন হতে পারে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধকে আরো শাণিত করার লক্ষ্যে দুদক এফএম বেতারের সহযোগিতায় কিছু বিশেষ বার্তা প্রচার করতে চায়।

দুদক তরুণ প্রজন্মকে নানাভাবে সম্পৃক্ত করেছে, জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, কমিশন কর্তৃক বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত প্রায় ২৫ হাজার ‘সততা সংঘের’ মাধ্যমে দেশব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কার্টুন, রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের অভিযোগকেন্দ্রে হাজার হাজার অভিযোগ আসে। তবে এসব অভিযোগের অধিকাংশই কমিশন আইনের তফসিলবহির্ভূত হওয়ায় কমিশনের পক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে অভিযোগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যায় এবং তারাও হতাশ হন।

কমিশনের আইনি ম্যান্ডেট ব্যপক প্রচারের জন্য এফএম বেতারের নির্বাহীদের সহযোগিতা চান দুদকের চেয়ারম্যান।

সভায় এফএম বেতারের প্রতিনিধিগণ তাদের রেটিং মান মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জানিয়ে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় দুদক চেয়ারম্যান তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, রেডিও ও টেলিভিশনের মান নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানের কার্যপদ্ধতি কমিশন বিধিমতো খতিয়ে দেখতে পারে।

সড়ক বিশৃঙ্খলা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আইন তৈরি করা হয় মানার জন্য, ভাঙার জন্য নয়। বিআরটিএর বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কমিশন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অভিযান পরিচালনা করেছে। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরও তাদের বিষয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। কমিশন তাদের কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

কীভাবে উল্টো পথে গাড়ি চলে, এ প্রশ্ন রেখে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এটা অবশ্যই থামাতে হবে। পদচারী সেতু রয়েছে অথচ আমরা কেউ ব্যবহার করব না, এটাও হতে পারে না। আমরা যারা আইন প্রয়োগ করব তারা সবার আগে আইন মানব, এটা জনসাধারণ দেখতে চায়।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কেউ যদি আইন অমান্য করে দুর্নীতি করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য নাগরিকের বিরুদ্ধে যেভাবে আইন প্রয়োগ করা হয় একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। এক্ষেত্রে ঘরে-বাইরে কাউকেই কোনো প্রকার অনুকম্পা দেখানো হবে না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দুর্নীতির তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তদন্তের ফলাফল জানার সুযোগ নেই।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রেডিও ভূমির শামস সুমন, পিপলস রেডিওর আব্দুল আউয়াল, রেডিও টুডের মো. সোয়েবুল হক ও এবিসি রেডিওর তালাত মাহমুদ প্রমুখ।